বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট ও সিরিজ থেকে বাদ পড়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। এমনকি ক্রিকেটও ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু বিকেএসপির কোচ আসাদুল হক টুটুলের বকা-ঝঁকায় ফের অনুশীলনে মন দেন। আর তাতেই ভাগ্য ফেরে ইমনের। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ধাপ পেরিয়ে এখন তিনি জাতীয় দলের তাঁবুতে। আজ (মঙ্গলবার) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ৭৬তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে ইমনের।
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ফরচুন বরিশালের হয়ে মাত্র ৪২ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরি পেয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই ব্যাটার। এরপরই ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের দলে সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু ইনজুরির কারণে বাদ পড়তে হয় তাকে। যদিও অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়নি। সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ হাত থেকে ক্যাপ পেয়ে গেলেন অল্প সময়ের ব্যবধানেই।
২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইমন। এরপর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে দারুণ পারফরম্যান্স করে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটান এই ব্যাটার। ওই টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচে ২৯.১২ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফসেঞ্চুরিতে ২৩৩ রান করেন ইমন। সব মিলিয়ে ২৫টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ইমনের রান ৫৭০। ২৩.৭৫ গড়ে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে তার। স্ট্রাইকরেট ১২৩.৩৭।
সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও একেবারে খারাপ কাটেনি তার। মোহামেডানের জার্সিতে সবাই যখন ব্যর্থ, ইমন তখন একাই চেষ্টা করেন। ৭ ম্যাচে ২৯.২৮ গড়ে তার রান ২০৫, আছে দুটি হাফসেঞ্চুরিও।
যদিও ক্রিকেটোর হয়ে ওঠার পথটা মোটেও সহজ ছিলো না তার। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত যুব এশিয়া কাপে সুযোগ পাননি ইমন। পরের শ্রীলঙ্কা সফরেও সুযোগ মেলেনি। পরপর দুটি সিরিজে সুযোগ হারিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন এই ওপেনার। তখন তার পাশে এসে দাঁড়ান বিকেএসপির কোচ আসাদুল হক টুটুল। তাকে জোর করে অনুশীলন করান, অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটের একটি টুর্নামেন্টেও খেলতে বাধ্য করেন। ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ৯৬ রানের ইনিংসই নতুন জীবন দেয় ইমনকে।
কাপড় ব্যবসায়ী বাবার ছেলে ইমন। ক্রিকেটে তার শুরুর রাস্তাতেও ছিল আরেকজন বিশেষ ব্যক্তির অবদান। ইমনের বড় ভাই ফয়সালের বন্ধু জিসান। তার সঙ্গেই এলাকার অলিতে-গলিতে ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন ইমন। কিছুটা ভালো খেলার কারণে জিসান বন্ধু ফয়সালকে বলে তার ভাইকে বিকেএসপিতে ভর্তি করে দিতে। ২০১৩ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হন, আর সামনে পেয়ে যান ক্রিকেটার হয়ে ওঠার চওড়া রাস্তা।