সবার সম্মতিতেই মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়া হয়েছে: প্রধান নির্বাচক

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রা। সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছিল। আকস্মিকভাবে থামতে হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। আগামী মাসে (অক্টোবরে) অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো সাবেক অধিনায়কের। মাহমুদউল্লাহকে ছাড়াই বুধবার ১৫ সদস্যের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। কেন মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়া, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। মূলত সাকিবসহ টিম ম্যানেজমেন্টের পরামর্শেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে বিশ্বকাপ দলের অংশ করা হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে নান্নু বলেছেন, ‘রিয়াদের (মাহমুদউল্লাহ) প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। জাতীয় দলের হয়ে অনেক ভালো ভালো খেলা আমাদের উপহার দিয়েছেন। শ্রীরাম (ব্যাটিং কনসালটেন্ট) আমাদের একটা প্ল্যান দিয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য এই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। একটু ডিফারেন্ট ডিরেকশন। ওই পরিকল্পনার সঙ্গেই আমরা গিয়েছি।’

মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচকদের একক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেনি। অধিনায়ক সাকিবসহ টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই মিলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নান্নু জানিয়েছেন, ‘সবার সম্মতিক্রমে রিয়াদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। সাকিব তো এশিয়া কাপ থেকেই অধিনায়ক। টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মাহমুদউল্লাহকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের চিন্তাটা আগেই নাকি নেওয়া ছিল! তারপরও ম্যাচের আবহে গত তিন দিনের অনুশীলনে দলের অংশ ছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় জুনিয়রদের সঙ্গে থাকলে অনেক কিছু শিখতে পারে। সে আমাদের সাবেক অধিনায়ক। তার সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা মানে নতুনদের অনেক কিছু শেখার আছে। ওকে যখন প্র্যাকটিসে আনা হয়েছে, দল নিয়ে কিন্তু কোনও আলোচনা হয়নি। তখন বসা শুরু করেছি মাত্র। তরুণরা ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। প্র্যাকটিসের পরই আমরা দল নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও মাহমুদউল্লাহর জাতীয় দলের দরজা আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন, ‘সময় বলে দেবে। কোনও খেলোয়াড় অবসর না নিলে তার সুযোগ অবশ্যই থাকবে।’ সঙ্গে প্রধান নির্বাচকও যোগ করেছেন, ‘অবশ্যই থাকবে। এটা তো অপ্রত্যাশিত কিছু না।’