ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালে শেষ হলো শ্রীলঙ্কার যুব বিশ্বকাপ মিশন। তবে লঙ্কানরা বিদায় নিলেও যুব বিশ্বকাপে বিস্ময় ছড়িয়ে গেলেন সব্যসাচী বোলার কামিন্ডু মেন্ডিজ।
শ্রীলঙ্কান গ্রেট ক্রিকেটার হাসান তিলকারত্নের যোগ্য উত্তরসূরী তিনি। হাসান তিলকারত্নে ১৯৯৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ওভারে দুই হাতে বল করেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কান এই ক্রিকেটারই কামিন্ডু মেন্ডিসের আদর্শ। তিনি বলেন, ‘আমার আদর্শ অবশ্যই হাসান তিলকারত্নে। তিনিও দুই হাতে বল করতে পারতেন।’
হাসান তিলকারত্নেই প্রথম দুই হাতে বল করা বোলার নন। এর আগেই মূলত এই কারিশমা দেখান হানিফ মোহাম্মদ। ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ডান হাতে বল করতে করতে হঠাৎ করেই কিছু বল করেছিলেন বাঁম হাতে। এই ম্যাচেই ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে রেকর্ড গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান স্যার গ্যারিফিল্ড সোবার্স। সে সময় এটিই ছিল টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।
এরপর আর্বিভাব হয় ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান গ্রাহাম গুচের। ১১৮ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ২৩টি উইকেটও নিয়েছেন এই ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। কিছু ম্যাচে তাঁকেও বল করতে দেখা গেছে দুই হাতে। তবে গুচ এটা করেছিলেন শখের বশে।
তারপরই মূলত এসেছেন হাসান তিলকারত্নে। তার অধ্যায় শেষ হলে দেখা যায় অক্ষয় কার্নেওয়ারকে। তিনি অবশ্য শখের বসে নয়; ব্যাটসম্যানদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত দুই হাতে বোলিং করতেন। ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা বিজয় হারারে ট্রফিতে অভিষেকেই সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন তিনি দুই হাতে সমান দক্ষতায় বোলিং করে।
টি-টোয়েন্টির প্রভাবে ক্রিকেটে ক্রমে কমে যাচ্ছে বোলারদের দাপট। ব্যাটসম্যানদের অভিনব সব উদ্ভাবনী শটের সামনে যেন কিছুটা দিশেহারাই হয়ে যেতে হচ্ছে বোলারদের। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোলাররাও যেন নিজেদের নিয়ে যেতে চাইছেন নতুন উচ্চতায়! কেউ কেউ রপ্ত করছেন দুই হাতেই বোলিং করার অভিনব কৌশল। এই কৌশলে সর্বশেষ সংযোজন কামিন্ডু মেন্ডিজ। এতো বছর পর বিশ্ব ক্রিকেট আবার দুই হাতে বল করা কোনও বোলারের বোলিং দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিকেট ভক্তরা।
শ্রীলঙ্কা যুব দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রিকেটার ব্যাট ও বল হাতে সমান পারদর্শী। মঙ্গলবারও ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ স্কোর (৩৯) তার। যদিও বল হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
মূলত ৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ ‘বি’ এর ম্যাচেও তিনি দুই হাতে বোলিং করেন। ২৭তম ওভারে তিনি যখন বল করতে আসেন, তখন উইকেটে ছিলেন পাকিস্তান দলের দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান উমাইর মাসুদ ও হাসান মহসিন। মেন্ডিস ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে টার্ন পাওয়ার জন্য বাঁহাতেই বল করতে শুরু করলেন। তৃতীয় বলে রানআউট হলেন মাসুদ। নামলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সালমান ফায়েজ। চতুর্থ বলটি অবশ্য খেললেন মহসিন এবং একটি রান নিয়ে প্রান্ত বদল করলেন। এবার যখন বাঁহাতি ফায়েজ ব্যাটিং প্রান্তে, তখন মেন্ডিস অফস্পিনার হয়ে গেলেন। সবার জন্য নতুন বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো। তিনি হয়ে গেলেন ‘সব্যসাচী’ বোলার!
নিজের এমন প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো এটা আমার জন্মগত প্রতিভা। আমি স্কুলে পড়তাম, তখন থেকেই দুই হাতে বোলিং অনুশীলন করতাম। তখন তার বয়স ১২-১৩ বছর ছিল বলেও জানালেন। যখন ডানহাতি ব্যাটসম্যান আসে, তখন বাঁহাতে আর যখন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আসলে, তখন অফস্পিন করি।’ যদিও তার 'ন্যাচারাল হ্যান্ড' বাঁহাত।
স্বাভাবিক ভাবেই কোচ ধানুস্কা ধিনাগামার সাহসেই তিনি এই অনুশীলন চালিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর বয়সে আমার কোচ বলেছিলেন, দুই হাতেই অনুশীলন করতে। তখন থেকেই শুরু করে দিলাম।’
/আরআই/এমআর/