আফগানদের হারিয়েও শ্রীলঙ্কার দিকে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে আফগানদের বিপক্ষে অনেক হিসাব-নিকাশ মেলানোর কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু জয় ছাড়া তারা আর কিছুই মেলাতে পারলো না। আফগানিস্তানকে মাত্র ৪ রানে হারালেও সেমির স্বপ্ন প্রায় মিইয়ে গেছে স্বাগতিকদের। কাগজে-কলমে যতটুকু টিকে আছে, সেটাও নির্ভর করছে শ্রীলঙ্কার অঘটন ঘটানোর ওপর। শনিবার তারা ইংল্যান্ডকে হারালেই কেবল সেমির টিকিট পাওয়া সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার। ইংলিশরা জিতলেই সেমিফাইনালে চলে যাবে। লঙ্কানরা অবশ্য সেমির দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।   

শনিবার টেবিলের তিন দল নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট যেহেতু সমান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তাই অগ্রিমভাবে রান রেটই বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডকে রান রেটে পেছনে ফেলতে ১৮৫ রানে জিততে হতো অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু অজি দল ৮ উইকেটে কেবল ১৬৮ রান করতে পেরেছে। তারপর বোলিংয়ে সুযোগ ছিল যদি আফগানদের ১০৬ বা আরও কম রানে আটকাতে পারে। তাহলে আরেক ফেভারিট ইংল্যান্ডকেও রান রেটে ছাড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সেটাও হয়নি। আফগানরা অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে ১৬৪ রান করতে পেরেছে।

টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। চোট থাকায় অ্যারন ফিঞ্চ-টিম ডেভিড একাদশে ছিলেন না। যার প্রভাবও পড়তে দেখা যায় পাওয়ার প্লেতে। ৬ ওভারের মাঝে পড়েছে ৩ উইকেট। সুযোগ পাওয়া ক্যামেরন গ্রিন (৩), স্টিভেন স্মিথ (৪) কেউ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ডেভিড ওয়ার্নার যদিও ২৫ রান করতে পেরেছেন। ৫২ রানে ৩ উইকেট যাওয়ার পর মিচেল মার্শের ৩০ বলে ৪৫, মার্কাস স্টয়নিসের ২১ বলে ২৫ আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ো ফিফটিতে স্কোর ৮ উইকেটে ১৬৮ রানে পৌঁছেছে। শেষ দিকে একা দলকে টেনে নেওয়া ম্যাক্সওয়েল ৩২ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাচসেরাও তিনি।      

আফগানদের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন নাভিন উল হক। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২৯ রানে দুটি নেন ফজল হক ফারুকী। ৪২ রানে একটি নিয়েছেন মুজিব উর রহমান।

জবাবে আফগানরাও সমান তালে জবাব দিতে থাকে। ৪০ রানের মধ্যে উসমান গনি (২) ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৩০) ফেরার পর গুলবাদিন নাইব ও ইবরাহিম জাদরানের ব্যাটে সম্ভাবনা দেখছিল আফগানিস্তান। নাইবকে (৩৯) রানআউট করতেই ম্যাচের দৃশ্য পাল্টে যেতে থাকে। তার ২৩ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। নাইবের বিদায়ের পর পর জাদরানও ২৬ রানে সাজঘরে ফিরেছেন। দ্রুত আরও কিছু উইকেট পড়লেও শেষটায় ক্যামিও ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ভয় ছড়াতে থাকেন রশিদ খান। ক্যামিও ইনিংসে শেষ ১২ বলে সমীকরণ নিয়ে আসেন ৩৩ রানে। তারপর শেষ ওভারে ২২। তখনও চার-ছয় মেরে অজি শিবিরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন। কিন্তু রানের চাপ বেশি হয়ে যাওয়ায় ৭ উইকেটে ১৬৪ রানই করতে পারে আফগানরা। রশিদ খান ২৩ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মিচেল স্টার্ক না থাকায় আজ ভুগতে দেখা গেছে অজিদের। ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড। ২২ রানে ২ উইকেট নেন অ্যাডাম জাম্পাও। ৪৮ রান খরচায় একটি উইকেট নিয়েছেন কেন রিচার্ডসন।