প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ভারতকে দ্রুত বেঁধে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। আগের দিন ৬ উইকেট তুলে নেওয়ার পর তারা আশায় ছিল প্রথম সেশনেই সফরকারীদের অলআউট করবে। কিন্তু দিনের শুরুতে শ্রেয়াস আইয়ারকে ফেরাতে পারলেও বাকি তিন উইকেটের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের দেড় সেশনে ভুল পরিকল্পনা ও নখদন্তহীন বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে ভারত প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত থেমেছে ৪০৪ রানে।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে শ্রেয়াস আইয়ারকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন পেসার এবাদত। তখন মনে হচ্ছিল ভারতকে সাড়ে তিনশো রানেই বুঝি বেঁধে ফেলা যাবে। কিন্তু অষ্টম উইকেটে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদীপ যাদবের প্রতিরোধ সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছে। ২০০ বল খেলে এই দুই ব্যাটার ৯২ রানের জুটি গড়েছেন (পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান যোগ হয়েছে)। লাঞ্চ থেকে ফেরার পর তো তারা দ্রুত রান তুলতে মরিয়া হয়ে উঠে। সেটি করতে গিয়েই স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন অশ্বিন। ১১৩ বলে ৫৮ রান করা ব্যাটারকে বিদায় দিয়েই শেষ দিকের প্রতিরোধ ভাঙতে সফল হয়েছে স্বাগতিক দল।
অশ্বিন ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরেন কুলদীপও। ১১৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে তাইজুলের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হন তিনি। শেষ উইকেটে উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ সিরাজের ১১ রানের জুটিতে ৪০০ রান পার হয়েছে। উমেশ ১০ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। মিরাজের বলে লংঅনে মুশফিকের হাতে সিরাজ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিতেই ভারতের ইনিংস থেমেছে ৪০৪ রানে।
দিনের শুরুতে দারুণ এক ডেলিভারিতে প্রথম সেশনের শুরুতেই শ্রেয়াসকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন এবাদত। প্রথম দিন দুইবার জীবন পাওয়া আইয়ার জীবন পান দ্বিতীয় দিনেও। তখন তিনি ৮৫ রানে ব্যাট করছিলেন। এবাদতের শর্ট বলে হুক করতে গেলে বল লিটন দাস ফাইন লেগে তা লুফে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সেই এবাদতের বলেই ফিরতে হয়েছে তাকে। ফেরার আগে ১৯২ বলে ৮৬ রান করেছেন। তাতে ছিল ১০টি চার। গতকাল (বুধবার) শেষ বিকালেও এবাদত তাকে বোল্ড করেছিলেন। কিন্তু স্ট্যাম্পের বেলস না পড়ায় নিয়মঅনুযায়ী নটআউট থাকেন শ্রেয়াস।
চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম দিন ৬ উইকেটে ২৭৮ রানে শেষ করেছে। গতকাল শ্রেয়াস আইয়ার-পূজারার ব্যাট থেকেই আসে মূল প্রতিরোধ। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় জীবন পেয়েছেন দুজনেই। পূজারাকে শেষ বিকালে ৯০ রানে বিদায় দিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। তার পর মিরাজ অক্ষর প্যাটেলকেও ফেরালে পতন হয় ষষ্ঠ উইকেটের।
তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ চারটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ছিলেন বেশ নিষ্প্রভ। এছাড়া খালেদ ও এবাদত একটি করে উইকেট নিয়েছেন।