চট্টগ্রাম টেস্টের বাকি আছে আর দুদিন। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশকে আরও করতে হবে ৪৭১ রান। প্রায় অসম্ভব এই লক্ষে শনিবার সকাল থেকেই ছুটতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। অপরদিকে বাংলাদেশকে হারাতে ভারতকে তুলে নিতে হবে ১০ উইকেট। আর ম্যাচটি ড্র করতে চাইলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের টিকে থাকতে হবে বাকি দুই দিন। ৪২ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষে করা বাংলাদেশ কি পারবে টেস্ট জিততে? এমন প্রশ্ন শুনে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেন কুলদীপ যাদব।
ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই অনেক কিছু ঘটে প্রতিনিয়ত। কেউ রেকর্ড গড়েন, সেই রেকর্ড আবার অন্য কেউ নিজের করে নেন। বাংলাদেশের সর্বচ্চে চেজ করে জেতার রেকর্ড ২১৭ রান হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে ৪১৮ রান চেজ করে জেতার রেকর্ড আছে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে জিততে হলে প্রায় অসম্ভব এই রেকর্ড গড়তে হবে। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া ভারতের বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব জানালেন, স্বাগতিক ব্যাটারদের কেউ ট্রিপল সেঞ্চুরি করলে সেটাও হয়েও যেতে পারে।
দিনের খেলা শেষ করে ভারতের হয়ে কথা বলতে আসেন কুলদীপ। বাংলাদেশের এই ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি চাই না (হাসি)। তবে এটাই ক্রিকেট, খেলার ধরনই এমন (অনিশ্চয়তার)। কেউ (বাংলাদেশের) যদি ৩০০ করে ফেলে, তাহলে অবশ্যই হয়তো… (বাংলাদেশের জয় সম্ভব)। তবে আমরা চেষ্টা করবো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের অলআউট করা যায়। আগামীকাল (শনিবার) এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ট্রিপল সেঞ্চুরিতো অনেক অনেক দূরের পথ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ কেউ হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি। স্বাগতিক ব্যাটারদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন কুলদীপ। বাঁ-হাতি এই রিস্ট স্পিনের সামনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যান ১৫০ রানে। ১৬ ওভার বল করেই ৪০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।
ভারতের ৪০৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ ১৫০ রানে থেমে যায়। বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে নিজেরাই ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। টেস্ট সুলভ ব্যাটিং করে লিড বাড়িয়ে নিতে থাকেন সফরকারীরা। যদিও শেষ দিকে এসে দ্রুত রান তুলে ৫১২ রানের লিড নেয় লোকেশ রাহুলের দল।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে কুলদীপ জানান, হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় তাদের কোনও তাড়া ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আরও দুই দিন আছে। টেস্টে অনেক সময় আছে। এখনও ১৮০ ওভার বাকি। এই ধরনের ক্রিকেটে অনেক সময়। আমাদের কোনও তাড়া ছিল না ওদেরকে ব্যাট দেওয়ার। এর চেয়ে রান করে তাদের ব্যাট করতে দেওয়াটা ভালো মনে করেছি। এটা আমাদের বোলারদেরও সুযোগ দেয়, যখন আপনি ডিফেন্ড করবেন। কোনও দলকে অনুমান করা যায় না বোলিং বা ব্যাটিংয়ের সময়। ৪০০ রান কখনও কখনও সহজ মনে হয়। যদি কেউ সেট হয়ে যায়, লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এমন না যে আমরা ভয় পেয়েছি। আমরা চা বিরতি-অবধি ব্যাট করে তাদের ১৫-২০ ওভার দিতে চেয়েছি।’