নানা গুঞ্জনের পর রাসেল ডমিঙ্গোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। আগামী দুই বছরের জন্য তিন ফরম্যাটে হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে হাথুরুসিংহের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানামুখী নেতিবাচক ও ইতিবাচক মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ও ফরচুন বরিশালের পরামর্শক নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করেন, ভালো বিকল্প না থাকার কারণেই হাথুরুসিংহেকে বেছে নিতে হয়েছে।
হাথুরুসিংহে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন। প্রথমবার দায়িত্ব নেন ২০১৪ সালের মে মাসে। এরপর গোটা দলের খোলনলচেই পাল্টে দিয়েছিলেন। তার অধীনে পারফরম্যান্সের উন্নতি হয়েছিল সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফিদের। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয় তার সঙ্গে। তারপরও নতুন করে হাথুরুর সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধেছে বিসিবি। নতুন চুক্তিতে তার আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসার কথা।
নতুন করে হাথুরুসিংহের দায়িত্বে আসা প্রসঙ্গে ফাহিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের তো একজন কোচ দরকার। আর এই মুহূর্তে ভালো একজন কোচ পাওয়াটা... বলছি না যে হাথুরুসিংহে ভালো কোচ নন। তবে একেবারে প্রথম সারির কোচ, যারা নামিদামি... তাদের পাওয়াটা খুবই মুশকিল। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কারণে তারা খুব কস্টলি। এই ধরনের অ্যাসাইনমেন্ট আর নিতেই চাচ্ছে না। তাই আমাদের হাতে হয়তো অপশন খুব বেশি ছিল না। ’
হাথুরুসিংহে প্রথম মেয়াদে বেশ সফল ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি কেমন করবেন সেটি নিয়েই যত জল্পনা-কল্পনা। বিকেএসপির এই ক্রিকেট উপদেষ্টা মনে করেন, ‘ও (হাথুরসিংহে) কেমন করবে সেটা এলেই বোঝা যাবে। কারণ, প্রথম যখন দায়িত্ব নিয়েছিল, তখন আমাদের প্রেক্ষাপট একরকম ছিল। দলের শক্তি একরকম ছিল। এখন আমরা এক জায়গায় আছি। এখানে চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন হবে। একটা জিনিস যে ও (হাথুরুসিংহে) বোর্ডের সাপোর্টটা খুব ভালো পায়। সেটা কাজে লাগানো উচিত।’
তারপরও হাথুরুসিংহে কেমন করেন, সেজন্য তাকে সময় দেওয়া উচিত- এমনটাই মনে করেন ফাহিম, ‘আমার মনে হয় হাথুরুসিংহে এসে কেমন করে, ওর ফিলোসফিটা কেমন হয় সেজন্য আমাদের একটু অপেক্ষা করা উচিত। কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা, দলকে কীভাবে মোটিভেট করে, ড্রেসিংরুমটাকে কীভাবে রাখে এবং উঠতি খেলোয়াড়দের কীভাবে হ্যান্ডেল করে বা আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটার যারা ছিল, সব মিলে কীভাবে হ্যান্ডল করে সেটা দেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রথম মেয়াদে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুব বেশি ভালো সম্পর্ক ছিল না হাথুরুসিংহের। শেষ পর্যন্ত এই কারণেই সম্পর্কচ্ছেদ করতে হয়েছে তাকে। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুলের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক ছিল, সেটা মোটেও ক্রিকেটীয় দৃষ্টিতে মধুর নয়। নতুন করে যুক্ত হওয়ার পর পুরোনো ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তাই দুশ্চিন্তা থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। এ ব্যাপারে ফাহিমের প্রতিক্রিয়া, ‘(সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক) ভালো ছিল না, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। এখনও যে সেরকম থাকবে তেমন কোনও কথা নেই। প্রেক্ষাপট যেহেতু বদলেছে, সবকিছুই বদলাতে পারে। আমি নিশ্চিত একজন কোচ যখন আসে, ভালো কিছু করতে চায়। এখানে তারও ক্যারিয়ারের ব্যাপার আছে, দল ভালো করলে তারও ভালো। আমি নিশ্চিত সেও ভালো কিছু করতে চাইবে।’