গত দুইদিন ধরেই সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে ঠিকঠাক উইকেট প্রস্তুতও করা যায়নি। উইকেটে স্যাঁতসেঁতে ভাব ছিল। এমন উইকেটে আয়ারল্যান্ড টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়। শুরুতে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসকে আটকে রেখেছিল সফরকারীরা। ১০ ওভারে ৪২ রান তোলার পর ওপেনার তামিম বিদায় নেন। তবে শুরুর কঠিন পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলে যাওয়ার পর বাকি ব্যাটারদের জন্য কাজটা মোটেও কঠিন হয়নি। শুরুতে লিটনের মনে হয়েছিল, বিদেশি কন্ডিশনে খেলছেন!
লিটন-শান্তর হাফ সেঞ্চুরির পর মুশফিকের সেঞ্চুরি ও হৃদয়ের ক্যামিও ইনিংসে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩৪৯ রান সংগ্রহ করে। অথচ প্রথম দশ ওভারে বাংলাদেশ ৪২ রান সংগ্রহ করেছিল। কেননা সিলেটে সকালের কন্ডিশন আইরিশদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠছিল। ঠাণ্ডা বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে তাই সুবিধা আদায় করে ফেলে তারা।
স্বাভাবিকভাবেই সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটনের মনে হয়েছে বিদেশি কন্ডিশনে খেলছেন। এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেছেন, ‘শুরুর দিকে ব্যাটিং করা খুবই কঠিন ছিল। অনেকদিন পর মনে হয় বাংলাদেশে এমন ক্রিকেট খেললাম যেটার অনুভূতি হচ্ছিল যেন বাইরের দেশে ক্রিকেট খেলছি। তাও আবার এরকম কন্ডিশনে। খুব একটা যে এখন শীত তা না, গ্রীষ্মের ভেতরে এরকম কন্ডিশনে যে বল মুভ করবে। হয়তো একদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে হয়তো তারা সুবিধা পেয়েছে। খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
৭১ বলে ৭০ রানের দারুণ ইনিংস খেলে লিটন আউট হয়েছেন অনেকটা হেলাফেলা করেই। অথচ সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়ার। যদিও সেঞ্চুরি মিস করে খুব একটা আক্ষেপ নেই লিটনের, ‘আক্ষেপ না, সেঞ্চুরি করতে পারলে ভালো লাগতো। হয়তো সেঞ্চুরি না, আরও বড় হতো। কিন্তু এটা খেলার অংশ, ঠিক আছে।’
শুধু লিটন নয়, সেঞ্চুরি মিস করেছেন শান্ত। প্রথম ম্যাচে সাকিব ৯৩ এবং হৃদয় ৯২ রান করে আউট হয়েছেন। দুইজনের সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার। কিন্তু কেউই পারেননি। এইসব নিয়ে ড্রেসিংরুমে কোন আলাপ হয় কি না প্রশ্নে লিটন বলেছেন, ‘দেখুন, প্রতিটা ব্যাটার যখন যায় বিশেষত টপ অর্ডাররা; তাদের একটা লক্ষ্য থাকে নট আউট হয়ে শেষ করা। এটা করলে ১০০-১৫০ হয়ে যায়। এখনকার ক্রিকেটে ২০০ তো অহরহ আছে। সেঞ্চুরির লক্ষ্য যদি বলেন, হ্যাঁ, আক্ষেপ থাকে, কিন্তু আমার মনে হয় সেঞ্চুরি শুধু একটা কাউন্টডাউন। আমি আর শান্ত যদি দুজনে ৪০-৪৫ ওভার খেলতে পারতাম তাহলে ১৫০, ১৬০-১৮০ হতে পারতো। কারণ আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম। এরকম আউট হলে কিছু করার থাকে না। অবশ্যই মুশফিক ভাই যে ইনিংস খেলেছেন, দেখার মতো ছিল। আমি মনে করি শান্ত বা আমারটার থেকে সুন্দর।’