আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বলা যায় প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে। বৃষ্টিতে দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত না হলে হোয়াইটওয়াশের আনন্দেও মাততে পারতো। তারপরও আইরিশদের বিপক্ষে যেভাবে ক্রিকেট খেলেছে, বিশ্বকাপের আগে সেটা স্বস্তির। স্পোর্টিং উইকেটে বাংলাদেশ কেমন করে, সেটিই ছিল মূল বিষয়। তাতে দেখা গেলো সিলেটে ব্যাটারদের পাশাপাশি পেসাররাও নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছেন। ব্যক্তিগতভাবে প্রথম দুই ম্যাচে অধিনায়ক তামিম ভালো ব্যাটিং করতে না পারলেও শেষ ম্যাচে রানে ফিরেছেন। আর ৬ বছর পর ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিক ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। দারুণ এক সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নানা কথা বলেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক।
প্রশ্ন: মুশফিককে ছয়ে খেলানোর মূল প্রক্রিয়া কী ছিল? এটা নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?
তামিম: শেষ সিরিজে আমি আর কোচ মিলে ঠিক করেছি ওকে (মুশফিক) ছয়ে খেলাবো। কারণ, তাকে চারে খেলানোর বিপক্ষে কিছু নেই, সেখানে দারুণ খেলেছে। কিন্তু তাকে ছয়ে নামানোর কারণ, আমরা মাঝে মধ্যে ভালোভাবে শেষ করতে পারি না। তার অনেক অভিজ্ঞতা, হাতে অনেক শট আছে। সেটা সে তার দুই ইনিংসে দেখিয়েছে। এটাই মূল কারণ। তার হাতে কম ওভার থাকলে, সে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে যায়। ভাগ্য ভালো, বিষয়টা কাজে দিয়েছে এবং অবিশ্বাস্যভাবে সে ভালোও খেলেছে। ও (মুশফিক) যদি সেটা ক্যারি করতে পারে, তাহলে আমাদের জন্যই সম্ভাব্য সেরা বিষয় হবে এটা। ছয়ে ব্যাট করা খুব ট্রিকিও হতে পারে। সবসময় ভালো শুরু হবে না। ১০০ রানে ৪ উইকেট, এমন পরিস্থিতিতেও তাকে এসে ব্যাট করতে হবে। তো যেই ব্যাট করুক, ছয়ে ব্যাট করাটা যে কারও জন্যই ট্রিকি। আপনি রিয়াদ ভাইয়ের কথা বলেন, আফিফ, মুশি (মুশফিক) যার কথাই বলেন। যে ৬-৭-এ খেলবে, তার জন্যই আমার একটা সফট কর্নার থাকবে। আমার সবসময়ই মনে হয় ওপেনিং পজিশনটা বাদ দিলে এখানে ব্যাটিং করা সবচেয়ে কঠিন।
প্রশ্ন: মিরাজকে এনে ছয় বোলার নিয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বোলিং আক্রমণে শক্তি বাড়াতে এটা কতটা কার্যকর?
তামিম: আমাদের এই থট প্রসেসটা প্রথম ম্যাচ থেকেই ছিল। চোট না পেলে এই একাদশেই মিরাজকে প্রথম ম্যাচে খেলাতাম। কারণ, মিরাজের ব্যাটিং সক্ষমতায় আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা যদি এই বিশ্বাসটা করতে পারি যে মিরাজ এভাবে ডেলিভার করতে পারবে, তাহলে ছয় বোলার নিয়ে খেললে কাজ করাটা সহজ হয়ে যায়। কারণ, কখনও কখনও পাঁচ বোলার খেলালে পার্টটাইম বোলার নিয়ে কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন উইকেটটা খুবই ভালো হয়। আমরা যখন জানতাম স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে যাচ্ছি, এ কারণে ছয়টা বোলার নিয়ে খেলতে নেমেছি প্রথম থেকেই। বাইরের কন্ডিশনেও এটা দেখতে পারেন। প্রতিপক্ষের ওপর, কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে এটা হতেই পারে।
প্রশ্ন: সিলেটের উইকেট কেমন মনে হলো?
তামিম: ইংল্যান্ড সিরিজেই বলেছি আপনারা ভবিষ্যতে দেখবেন আমরা এমন উইকেটে খেলবো। একটা ওয়ানডে চট্টগ্রামে যাওয়াটা একটা পদক্ষেপ ছিল। এখানে এসে আমরা উইকেটে ভালো পরিমাণে ঘাস রেখে দিয়েছি। সাধারণত ঘাসের উইকেটে আমরা খুব বেশি খেলি না। বিশ্বকাপের কথা ভেবে, সামনের যে সিরিজগুলো আছে, এ কারণেই এমন উইকেটে খেলা। আপনি যখনই এই ধরনের উইকেটে খেলবেন, বিশেষ করে ঘরের মাঠে, লড়াইটা সমান হয়ে যায়। কারণ, ওদের যে ফাস্টবোলার আছে, ওরা কিন্তু ওদের দেশে এই ধরনের উইকেটে বল করতেই অভ্যস্ত। আমরা চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম, খেলোয়াড়রাও দারুণভাবে সাড়া দিয়েছে।
প্রশ্ন: প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। আজকে সব কিছুই ঠিকঠাক করতে পেরেছেন। নিজের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা?
তামিম: খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়, বিশেষ করে প্রথম দুই ইনিংস যেভাবে খেলেছি, আর আজকের উইকেটটা পুরো আলাদা ছিল। আমরা অন্য দিন আগে ব্যাট করেছি, টিকে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ১০-১৫ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু আজ বল খুব ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল। আমার মনে হয়েছে যেভাবে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি, সেভাবেই পেরেছি। লক্ষ্যটাও বড় ছিল না। নট আউট থেকে শেষ করতে পেরেছি, খুব খুশি আমি।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে পেসাররা ভালো করছেন। আজকে তারা ১০ উইকেট পেলো। এমন সাফল্যে পেসারদের স্বীকৃতি দেবেন?
তামিম: হ্যাঁ। যদি শুধু বলি যে তারা দারুণ বল করেছে, এটা বলা ভুল হবে। আমার কাছে মনে হয়, মাঠের বাইরে যে কাজ তারা করেছে, এখন মাঠে কাজে দিচ্ছে। তাদের এই সফলতা ফ্লুক নয়, নেটে কঠোর পরিশ্রম করছে। আপনার হাতে যখন এমন একটা ফাস্টবোলিং অ্যাটাক থাকবে, কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। যেখানেই খেলছেন, হোম হোক বা অ্যাওয়ে, যেকোনও জায়গায় আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবেন। পুরো পেস বোলিং ইউনিটকে নিয়েই গর্ব হয় আমার। শুধু হাসান পাঁচ উইকেট পেয়েছে বলেই নয়, অন্য কেউ তিন-চার উইকেট পেয়েছে বলেও নয়, যেভাবে তারা বল করেছে, পুরো সিরিজে সেটা বেশ তৃপ্তি দিয়েছে।