লম্বা সময় ধরেই বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি নিয়ে ছিল অস্বস্তি। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে গত দুই বছর ধরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়েও ওপেনিংয়ে চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই সাফল্য সন্তুষ্টি মিলছিল না। অবশেষে সমাধান পেয়ে গেছে বাংলাদেশ! রনি তালুকদারের সাথে লিটন দাসের ওপেনিং জুটিতে সাফল্য মিলছে। বুধবার ম্যাচ শেষে লিটনও অকপটে স্বীকার করে নিলেন সঙ্গী বদলেই পাল্টে গেছে ওপেনিং জুটির পারফরম্যান্স।
২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন ওপেনিং জুটি খেলেছে। বিস্ময়কর তথ্য হলেও রনি-লিটনের ৫ ইনিংসের ওপেনিং জুটি সেগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের ১৮টি জুটির মধ্যে আটটিতে লিটন নিজেও ছিলেন। ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে যাত্রা শুরু করা এই নতুন জুটি ৫ ইনিংসে ৬৩.৮০ গড় আর ওভারপ্রতি ১০.৬৩ রানরেটে ৩১৯ রান তুলেছে। দুইয়ে থাকা নাঈম শেখ-লিটনের ওপেনিং জুটি ১২ ইনিংসে ১৮.১৬ গড় আর ওভারপ্রতি ৫.৭৬ রানরেটে ২১৮ রান করেছে। ৮ ইনিংসে ১৯৮ রান সৌম্য সরকার-নাঈম জুটির। তিন ইনিংসে ১১৩ রান লিটন ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটির। তাদের গড় ৩৭.৬৬ হলেও ওভারপ্রতি রানরেট ৮.২৬। এছাড়া আর কোনও জুটি এই সময়ে একশো রানও তুলতে পারেনি।
বুধবার ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিটন। সেখানেই প্রশ্ন তোলা হয় আগে তো ওপেনিং জুটি সাফল্য পেতো না। এখন কীভাবে ওপেনিং জুটির মানসিকতা বদলালো। কিছুটা বিরক্ত সুরেই লিটনের উত্তর, ‘(উদ্বোধনী জুটির) সঙ্গী বদলে গেছে, (পারফরম্যান্সও পরিবর্তন) হয়ে গেছে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে, আপনারা যে কোনও সময় যখন প্রশ্ন করেন, পেছনের কথা কেন টানেন? নতুন যে জিনিসটা হচ্ছে, এটা কি ভালো লাগছে না? দুই বছর, এক বছর... আগের জিনিস টানার তো কোনও দরকার নেই। এখন ভালো খেলছি। এই জুটিটা কত দূর যেতে পারে, দেখি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে লিটনের সঙ্গী হিসেবে নিয়ে আসা হয় রনিকে। তার সঙ্গে জুটিটাকে কীভাবে দেখছেন লিটন? উত্তরে প্রশংসা ঝরলো সঙ্গীকে নিয়ে, ‘যে শুরু আমরা করেছি, আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে এটাই সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বড় কিছু তো আর হতে পারে না। এখন টানা প্রতিটা ম্যাচেই আপনি এই সাফল্য পাবেন না যে, যাবো আর দুজনই হিট করা শুরু করবো। এমন সময় আসবে যে, ভুগতে হবে। তবে তার সাথে ব্যাটিং করে অনেক মজা পাচ্ছি।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ৮১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪.৬০ গড়ে লিটন-রনি পাওয়ার প্লেতে রান তোলেন ৭৩ (৫ ওভারের পাওয়ার প্লে)। টানা দুই ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়ে খেলেছেন লিটন ও রনি। পাওয়ার প্লের টার্গেট সম্পর্কে জানতে চাইলে লিটন বলেছেন, ‘এরকম কোনও কিছু ছিল না। যখন ব্যাটিংয়ে নামেন এক দুই বল খেলে কিন্তু একটা অনুভূতি কাজ করে। আমাদের একটা অনুভূতি হচ্ছিল যে আমরা মারতে পারবো। এজন্য আমরা সুযোগ নিয়েছি।’
উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ সাধারণত স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে থাকে। তবে এবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অনেকটা ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই ছিল। স্পোর্টিং উইকেটে খেলার কারণেই এ সাফল্য পাচ্ছেন কি না প্রশ্নে লিটন বলেছেন, ‘প্রথমত ভাইয়া ভালো উইকেট মানেই কি আপনি ৫০ রান করবেন নিয়মিত? জিনিসটা এমন না। আপনাকে নিয়মিত কঠিন উইকেটে কষ্ট করে রান করতে হবে, ভালো উইকেটেও কষ্ট করে রান করতে হবে। অবশ্যই ভালো উইকেটে যখন আমরা খেলবো, দুই দিক থেকেই ভালো থাকবে। বোলাররাও সহায়তা পাচ্ছে। ব্যাটাররাও বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ভালো উইকেটে খেলবে অবশ্যই উপকার হবে।’