শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৩৬৯ রান করতে পেরেছে, যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১৫৯ রানের জুটির। এছাড়া লিটন দাসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ইনিংসের ভূমিকাও আছে। এই চার ক্রিকেটারের মধ্যে মুশফিকই কেবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। সাকিব ৮৩ রান করে আউট হয়েছেন। লিটন খেলেছেন ৪৩ রানের ইনিংস। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে মিরাজ খেলেছেন ৫৫ রানের ইনিংস। বুধবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানালেন, মুশফিকের সঙ্গে বাকি তিনজনেরও সেঞ্চুরি পাওয়া উচিত ছিল।
দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সিডন্স বলেছেন, ‘ছেলেরা যেভাবে ব্যাট করেছে আমি খুবই খুশি। একটু আগ্রাসী ছিল, তবে ছেলেরা তাদেরকে (আয়ারল্যান্ডকে) কোনও সুযোগই দেয়নি। এ কারণে মনে হয়েছে ম্যাচটা অনেক গভীরে চলে এসেছে। চার খেলোয়াড় ভালো খেলেছে, তবে সেঞ্চুরি একটি, আমার মনে হয় চারটি শতক হতে পারতো (সাকিব, মুশফিক, লিটন ও মিরাজ)। শেষ সেশনে ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোতেই ঝামেলা হয়েছে। তবে লিটন ও সাকিব সেঞ্চুরি করতেই পারতো।’
৪০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেন সাকিব। আগ্রাসী ব্যাটিং করে আইরিশ বোলারদের ভড়কে দেন সাকিব। তাইতো তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ব্যাটিং কোচ, ‘সাকিব দ্রুত রান করছিল। তবে বল কিন্তু বাতাসে ভাসিয়ে দেয়নি। আজ সে আমাদের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ছন্দে ছিল। শৃঙ্খলা রেখে ব্যাট করেছে। তিন উইকেট হারানোর পর দারুণভাবে সামলে নিয়েছে। তার সাথে মুশফিকের পার্টনারশিপের কারণেই দিনশেষে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। সাকিব যেভাবে খেলছিল সেভাবেই খেলে যেতে চেয়েছে। পুরো ইনিংসেই কিন্তু সুইপ ভালো খেলেছে। তবে এই (আউটের) শট ভুল ছিল। ব্যাটিংয়ে একটি ভুল শটেই তো আপনাকে আউট হয়ে যেতে হবে। ওয়ানডে সিরিজেও একটি ম্যাচে সেঞ্চুরির খুব কাছে ছিল।’
আয়ারল্যান্ডের করা ২১৪ রানের জবাবে খেলতে নেমে বাংলাদেশে প্রথম ইনিসে ১৫৫ রানের লিড নেয়। এদিন শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে ৪ উইকেটে ২৭ রান করে সফরকারীরা। বৃহস্পতিবার নতুন দিনে তারা নামবে ১২৮ রানে পিছিয়ে থেকে। তাইতো স্বস্তিতে কোচ, ‘আজ দিনশেষে চার উইকেট নেই ওদের, এ কারণে স্কোরবোর্ড আমাদের কাছে ভালো দেখাচ্ছে।’
বুধবার দ্রুতগতিতে রান তুলেছে বাংলাদেশ। ৪.৫৮ গড়ে ৮০.৩ ওভারে রান করেছে বাংলাদেশ। মূলত ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই টেস্টেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মনোযোগী বাংলাদেশ, ‘আমরা বেশ কিছু দিন ধরেই আগ্রাসী মানসিকতা তৈরি করার চেষ্টা করছি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, এ কারণেই এই আগ্রাসী ব্যাটিং। ওদের বিপক্ষে আমাদের চ্যালেঞ্জই ছিল যে, আমরা যেন দ্রুত রান তুলতে পারি। বিশেষ করে ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে। বিশ্বকাপে ২৪০, ২৫০ রান নিয়ে লাভ হবে না, সেখানে ৩০০ বা তিনশরও বেশি রান করতে হবে।’
দলের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিক সেঞ্চুরি পেয়েছেন। খেলেছেন ১২৬ রানের ইনিংস। মুশফিকের ইনিংসের মুগ্ধতার কথা জানালেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, ‘মুশফিকের ইনিংস মুগ্ধকর। চাপের মুখে মুশফিক ভালো খেলে। উইকেটে টিকে থেকে রান বের করে আনে। আবার দলের প্রয়োজন অনুযায়ী আগ্রাসী ব্যাটিংও করেছে। বাজে বলে মেরেছে, তবে রক্ষণেও বেশ শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছে। টেস্টে আমাদের এভাবেই খেলতে হবে।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে কেবলমাত্র স্পিনার হিসেবে খেললেও গত দুই বছর ধরে অলরাউন্ডার হিসেবেই খেলছেন মিরাজ। ব্যাটিংয়ে যে পজিশনেই সুযোগ পাচ্ছেন, নিজেকে মেলে ধরছেন। সিডন্স মিরাজকে পুরোদস্তুর ব্যাটার হিসেবেই স্বীকৃতি দিলেন, ‘মিরাজ এখন পুরোদস্তুর ব্যাটার। একজন সঠিক অলরাউন্ডার যে ব্যাট করে। ওয়ানডেতেও নিজেকে প্রমাণ করেছে, টেস্টেও করেছে। আজকের অর্ধশতক 'ওয়েল টাইমড'। আগ্রাসী হয়েও সিঙ্গেল নিয়েছে, একদিক সামলে রেখেছে, বোলারদের অন্য প্রান্তে আগলে রেখেছে। ওর হিট করার সামর্থ্যের কারণে ওয়ানডেতে আমাদের অন্যতম মূল ব্যাটার সে। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে সাতে সে বেশ মানানসই।’
এদিকে তাইজুল-ইবাদত-শরিফুলদের ব্যাটিং স্কিল নিয়ে দারুণ খুশি সিডন্স। যদিও পেসার খালেদ আহমেদকে নিয়ে যথেষ্ট কাজের সুযোগ পাননি তিনি। তারপরও টেল এন্ডারদের ব্যাটিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শোনালো সিডন্সের কণ্ঠ, ‘টেল এন্ডারদের নিয়ে আমরা অনেক কাজ করছি। ইবাদতকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক উন্নতি করেছে। খালেদকে নিয়ে সেভাবে কাজ করার সুযোগ পাইনি। খালেদ যেহেতু সাদা বলে খেলে না, তাই তাকে নিয়ে সেভাবে কাজ করা হয়নি। তাইজুলেরও ব্যাট হাতে ভালো করার সুযোগ আছে, তখন আমরা ৭ ব্যাটার নিয়ে খেলতে পারবো। তাসকিন নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মুখিয়ে আছে। এখনও সে একজন বোলার, যে মোটামুটি ব্যাট করতে পারে।’