গলে মাথা তুলে দাঁড়ানো সফরকারী যে কোনও দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় ৪ টেস্ট খেলা আইরিশদের সামনে শ্রীলঙ্কা গড়ে রানের পাহাড়। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে তাদের করা ৫৯১ রানের পর তাতে পিষ্ট হয়েছে আয়ারল্যান্ড। তাতে তিন দিনেই শেষ হয়েছে এই টেস্ট। ফলোঅন করতে নেমে আইরিশরা দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৮ রানে গুটিয়ে গেছে। লঙ্কান দল জিতেছে ইনিংস ও ২৮০ রানে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটা লঙ্কানদের সবচেয়ে বড় জয়। আগের বড় জয়টি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৪ সালে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে সেবারের জয়টি ছিল ইনিংস ও ২৫৪ রানে।
প্রথম ইনিংসে গতকাল থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল সফরকারীরা। ১১৭ রান তুলতেই হারিয়েছে ৭ উইকেট। তৃতীয় দিনের শুরুতে এই ইনিংস স্থায়ী হয়েছে আর ৭ ওভারের মতো। ১৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ফলোঅন করতে নেমেও ব্যাটিং বিপর্যয় এড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা লড়াই চললেও পুরো দিনে ১৩ উইকেটের পতন আইরিশদের দুর্বল ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দেয়।
প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে বড় অবদান ছিল বামহাতি স্পিনার প্রবাথ জয়াসুরিয়ার। ৫২ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয়ে ইনিংসে আলো ছড়িয়েছেন অফস্পিনার রামেশ মেন্ডিস। ৭৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। প্রবাথ অবশ্য ৫৬ রানে আরও ৩ উইকেট নিয়ে দশ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। ম্যাচসেরাও তিনি।
আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানে পড়েছে ৫ উইকেট। বিপর্যয় সামাল দিতে তখন অবদান রাখেন হ্যারি টেক্টর। করেছেন ৪২। তাছাড়া লেজের দিকে কার্টিস ক্যাম্ফার (৩০), জর্জ ডকরেলের (৩২) হালকা প্রতিরোধে প্রথম ইনিংসের চেয়ে বড় হয়েছে স্কোরবোর্ড। মার্ক অ্যাডায়ার ২৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ১৩১ ওভারে ৫৯১/৬ ডি. (করুনারত্নে ১৭৯, মেন্ডিস ১৪০, চান্ডিমাল ১০২*; ক্যাম্ফার ২/৮৪)।
আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৫২.৩ ওভারে ১৪৩ (টাকার ৪৫, ম্যাককলাম ৩৫, টেক্টর ৩৪; প্রবাথ ৭/৫২)।
আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ৫৪.১ ইনিংসে ১৬৮ (টেক্টর ৪২, ডকরেল ৩২, ক্যাম্ফার ৩০; রামেশ ৪/৭৬, প্রবাথ ৩/৫৬)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ইনিংস ও ২৮০ রানে জয়ী।