যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের দলে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তাকে নিয়ে নির্বাচক থেকে শুরু করে দলের সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর খুব ভালো করেই চোখ রাখছেন।
মৃত্যুঞ্জয়ের বাবা তাহাজ্জত হোসেন চৌধুরী ওয়াসিম আকরামের ভক্ত। পাকিস্তানের সাবেক পেসারের বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, তার ছেলেও একদিন ‘সুলতান অব সুইংয়ের’ মতো হবে। বাবার স্বপ্ন পূরণে ২০১২ সালে আবাহনী মাঠ থেকে শুরু হয় মৃত্যুঞ্জয়ের লড়াই। সহজাত বোলিংয়ে দ্রুতই বয়সভিত্তিক দলের সিঁড়ি ভেঙে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের সবখানেই সাফল্যের ছাপ রেখেছেন মৃত্যুঞ্জয়। জাতীয় লিগ, বিসিএল, বিপিএল সবখানেই তার দারুণ পারফরম্যান্স। ২০২১ সালে বিসিএলে ভালো খেলে বিপিএলে সুযোগ পান। ২০২২ সালে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সর্বশেষ বিপিএল তো কেটেছে স্বপ্নের মতো। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট-বল হাতে শেখ জামালের হয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট খেলছেন মৃত্যুঞ্জয়।
মৃত্যুঞ্জয় কেবল গতির ঝড়ই তোলেন না, তার বোলিংয়েও রয়েছে বৈচিত্র্য। বিশেষ করে যে কোনও পজিশনে বোলিং করতে পারদর্শী তিনি। শুধু তাই নয়, ব্যাটিংটাও দারুণ পারেন এই অলরাউন্ডার। ইনজুরির কারণে তাসকিন যেহেতু নেই, সেক্ষেত্রে ইংলিশ কন্ডিশনে মৃত্যুঞ্জয় হতে পারেন তামিম ইকবালের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।
শনিবার সিলেটে মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘ভালো প্রশ্ন। সে (মৃত্যুঞ্জয়) আমাদের পেস বোলিং অলরাউন্ডার। কী করতে পারে, সামর্থ্য কেমন, সেটা আমাদের দেখাতে সে এখানে (ক্যাম্পে) এসেছে। আমি তার ব্যাটিং খুব বেশি দেখিনি। তবে শুনেছি সে ভালো বোলার। ম্যাচের তিন পর্যায়েই বল করার মতো স্কিলসেট আছে। এখানে এসে সে অবশ্যই ব্যাটিংয়ে উন্নতি করবে। আমাদের চোখ আছে তার ওপর।’