কাটারখ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান এমনিতেই লাজুক, স্বল্পভাষী। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে যেন তার মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে। টানা প্রায় দশ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে একটি বাক্যই ঠিকমতো বলতে পারলেন না তিনি।
সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের জবাবে প্রায় একইরকম উত্তর দিয়েছেন মুস্তাফিজ। কোনওরকম এক লাইনের দায়সারা জবাব দিতে পারলেই যেন মুক্তি মেলে। এক প্রশ্নের উত্তরে তো বলেই ফেললেন, 'ঘুরেফিরে সব একই উত্তর, এটাতো (প্রশ্নের উত্তর) আগেই দিয়ে দিয়েছি।'
অবশ্য সাংবাদিকদের সামলানো কাজ নয় মুস্তাফিজের। বল হাতে মাঠে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার দিকেই মনযোগ তার।
গত বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। এরপর দ্বি-পাক্ষিক অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছেন। তবে বৈশ্বিক কোনও টুর্নামেন্টে খেলা হয়নি সাতক্ষীরা থেকে উঠে তরুন এই বাঁহাতি পেসারের। এমন টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন মুস্তাফিজ।
২০১২ সালে যখন বাংলাদেশ যখন পাকিস্তানের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলছিল তখন তিনি বাংলাদেশ দলের নেট বোলার। পেস ফাউন্ডেশন ক্যাম্পে বোলিং নিয়ে কাজও করছিলেন তখন। সেই মুস্তাফিজ এখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ২ রানের হারার পর স্বভাবতই মন খারাপ হয়েছিলো মুস্তাফিজের। তবে এই আসরে মুস্তাফিজ সুযোগ পাচ্ছেন সে দুঃখ ঘুচানোর!
২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খুলনা ও চট্টগ্রাম ঘুরে তৃতীয় দফা অনুশীলনের ক্যাম্প বসেছে মিরপুরে।
শনিবার অনুশীলনের প্রথম দিন শেষ হয়েছে। এরই এক পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ‘বিস্ময় বালক’ মুস্তাফিজুর রহমান। সংবাদ মাধ্যমকে তার দেওয়ার সাক্ষাৎকারটি বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:-
প্রশ্ন: ২০১২ সালে বাংলাদেশ যখন ফাইনাল খেলছিলো তখন কোথায় ছিলেন?
মুস্তাফিজ: ওই সময় আমি ঢাকাতেই পেস ফাউন্ডেশন ক্যাম্পে ছিলাম। আমি বাংলাদেশ দলের নেটেও বোলিং করেছি। মামার বাসায় ছিলাম।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ হেরেছিলো ঠিক কতখানি খারাপ লেগেছিলো?
মুস্তাফিজ: দেশের খেলা। হারলে তো খারাপ লাগবেই।
প্রশ্ন: কতোটুকু খারাপ লাগা ছিলো ?
মুস্তাফিজ: এখন হারলে যেমন লাগে সেরকমই লেগেছে।
প্রশ্ন: এই প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলছেন, কতটা রোমাঞ্চ কাজ করছে?
প্রশ্ন: ভারতের বিপক্ষে বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা আছে কিনা?
মুস্তাফিজ : সুযোগ দিলে আমি চেষ্টা করবো সেরাটা দিতে।
প্রশ্ন: এশিয়া কাপে ব্যক্তিগত কোনও লক্ষ্য আছে কিনা?
মুস্তাফিজ : সেরকম কোনও লক্ষ্য নাই। সব সময় যে রকম, এবারও সে রকম চেষ্টা করবো।
প্রশ্ন : ইনজুরির কী খবর?
মুস্তাফিজ : এখন অনেক ভালো। অনুশীলন চলছে। আরও চারদিন আছে। আশা করি পুরোপুরি ফিট হয়ে সব ধরনের বল করতে পারবো।
প্রশ্ন: টেস্ট-ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়েছেন; কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার এখনও পাননি। এটা কি কঠিন?
মুস্তাফিজ: খেলতে পারলে সব সহজ।
প্রশ্ন: আগামী ছয়মাস টি-টোয়েন্টিই খেলতে হবে। আপনি আইপিএলও খেলবেন। কী পরিকল্পনা আছে ?
মুস্তাফিজ : দেশেরটা প্রথম। পরে আইপিএল।
প্রশ্ন: চ্যাম্পিয়ন হওয়া কি সম্ভব ?
মুস্তাফিজ: যে কোনও খেলায় চেষ্টা করি চ্যাম্পিয়ন হতে। সবসময় সে চেষ্টাই থাকে।
/আরআই/এমআর/