কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করতে না পারায় শীর্ষস্থানও হারিয়েছে পাকিস্তান

টানা চার ওয়ানডে হেরে নিউ জিল্যান্ডের সামনে ছিল হোয়াইওয়াশের শঙ্কা। তবে উইল ইয়াং ও টম ল্যাথামের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর ডানহাতি পেসার হেনরি শিপলি ও রাচিন রবীন্দ্রের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সহজেই জিততে যাচ্ছিল কিউইরা। কিন্তু এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ ম্যাচটি প্রায় ছিনিয়েই নিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত হেনরির দারুণ থ্রোতে হারিস রান আউট হলে পাকিস্তানকে ২৫২ রানে থামতে হয়েছে। তাতে পঞ্চাম ও শেষ ওয়ানডেতে ৪৭ রানের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পেরেছে নিউ জিল্যান্ড। এই পরাজয়ে আগের ম্যাচ জিতে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে বসা পাকিস্তান তাদের সিংহাসনও হারিয়েছে। নেমে গেছে তিনে। শীর্ষ আসন দখলে রাখতে শেষ ওয়ানডে জয়ের বিকল্প ছিল না।  

স্কোর: নিউ জিল্যান্ড ৪৯.৩ ওভারে ২৯৯

পাকিস্তান: ৪৬.১ ওভারে ২৫২

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪৭ রানে জয়ী।

সিরিজ সেরা: ফখর জামান। 

ম্যাচসেরা: হেনরি শিপলি। 

করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের দেওয়া ৩০০ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৬৬ রানে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারায় স্বাগতিক পাকিস্তান। বড় লক্ষ্যের বিপরীতে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। পরবর্তীতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি টানা চার ম্যাচে কিউইদের হারানো স্বাগতিক দল। টপ অর্ডারের চার ব্যাটারের মধ্যে ফখর জামান কেবল দুই অঙ্কের ঘরে (৩৩) রান করতে পেরেছেন। বাকি তিন ব্যাটার বাবর আজম (১), শান মাহমুদ (৭) ও মোহাম্মদ রিজওয়ান (৯) রানে আউট হন।

পঞ্চম উইকেটে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন আগা সালমান ও ইফতিখার আহমেদ। দু’জন মিলে ৯৫ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েছেন। কিন্তু আগা সালমান ৫৭ রানে আউট হওয়ার পর ফের নিয়ন্ত্রণ হারায় স্বাগতিকরা। এক পাশ আগলে রেখে ইফতিখার লড়াই করলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। ৬৬ বলে ৯৪ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। আগা খানের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৯৭ রানের পর শাদাব খানের সঙ্গে যোগ করেছেন ৩০ রান। এরপর লেট অর্ডার উসামা মিরের সঙ্গে ২৩, মোহাম্মদ ওয়াসিমের সঙ্গে ১৪ এবং শেষ উইকেটে হারিসের সঙ্গে ২২ রানের জুটি গড়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনিই। দলকে জেতাতে না পারলেও ইফতিখারের ইনিংসটি ছিল আনিন্দ্য সুন্দর। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন।

নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে হেনরি শিপলি ৩৪ রানে নেন তিনটি উইকেট। ম্যাচসেরাও তিনি। এছাড়া ব্যাট হাতে অবদান রাখা রাচিন রবীন্দ্রও ৬৫ রানে শিকার করেছেন তিনটি।

এর আগে টস জিতে কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও দলীয় ৩২ রানে টম ব্লান্ডেল (১৫) আউট হয়ে চাপে ফেলে দেন দলকে। ইয়াংয়ের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে হেনরি নিকোলস ২৩ রানে আউট হয়েছেন। তৃতীয় উইকেটে অবশ্য ইয়াং ও ল্যাথাম মিলেই ৭৪ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দলের স্কোর দেড়শো পার হওয়ার পর ওপেনিংয়ে নামা ইয়াং ৮৭ রান করে আউট হন। ৯১ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান কিউই এই ব্যাটার।

এরপর মার্ক চ্যাপম্যানকে নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা চালিয়ে যান অধিনায়ক ল্যাথাম। যদিও ৫৬ রানের জুটির পর চ্যাপম্যান (৪৩) ফিরলে ভেঙে যায় সম্ভাবনাময় এই জুটি। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ল্যাথামও। ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে কিউই এই ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন। শেষ দিকে কোল ম্যাকেঞ্জির ২৬ ও রাচিন রবীন্দ্রর ২৮ রানের ওপর দাঁড়িয়ে নিউ জিল্যান্ড ৪৯.৩ ওভারে ২৯৯ রান করেছে।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া উসামা মির ও শাদাব খান নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।