রাবাদাকে অনুসরণ করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন মুশফিক

২০১৮ সালে প্রথমবার ক্রিকেট বলে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন মুশফিক হাসান। তার দুর্দান্ত বোলিং দেখে বিস্মিত বিভাগীয় কোচ বিপুল ফাতেমী নিকেল। এরপর লালমনিরহাট গভর্মেন্ট হাই স্কুল থেকে ২০১৯ সালে দারুণ সাফল্য পান। ৩ ম্যাচে ১২ উইকেট পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভাব-অনটন নিত্য সঙ্গী হলেও বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে যাননি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া এই পেসার। তরুণ এই পেসারের স্বপ্ন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার মতো হওয়ার। তাকে অনুসরণ করেই একটু একটু করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তরুণ এই পেসার।

গত বছর প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক মুশিফকের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে 'এ' দলের হয়েও সুযোগ পেয়ে নিজের প্রতিভা জানান দিয়েছেন। লাল বলের বাইরেও সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার রাবাদাকে অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি, ‘এখন আমি প্রেরণা পাই বাংলাদেশের পেস বোলারদের থেকে। তবে আমি ছোটবেলা থেকেই অনুসরণ করি (কাগিসো) রাবাদাকে। ভবিষ্যতে তার মতোই হতে চাই।’

গত কিছুদিন ধরেই সাবেক প্রোটিয়া পেসার অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন মুশফিক। কাজ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছি, অনেক ভালো লাগছে। মানে আলাদা কোনও কিছু মনে হচ্ছে না। অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে আগে কাজ করেছিলাম। আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আমার বোলিং দেখে ভালো বলেছেন।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সাকিবের সাথে মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন মুশফিক। গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েও অবদান রেখেছেন। সাকিব তাকে ওইদিন দিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, ‘সাকিব ভাইয়ের সাথে মোহামেডানে খেলেছি। উনি অনেক প্রেরণা দিয়েছেন। সুযোগ পাওয়ার পর ওভাবে কথা হয়নি। ঢাকা লিগে একসাথে খেলে উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অনেক সাহায্য করেছেন। যখন মাঠে খেলছিলাম, তখন বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ‘এটা কর, ওটা কর।’ যখনই কিছু জিজ্ঞাসা করেছি, সুন্দরভাবে উত্তর দিয়েছেন। অনুশীলনে দেখা হওয়ার পর সাকিব ভাই বললেন, ‘অভিনন্দন মুশফিক। চালিয়ে যাও।’

টেস্ট খেলার অপেক্ষায় মুশফিক

তবে মুশফিকের এই পথ পাড়ি দেওয়া এতটা সহজ ছিল না। ক্রিকেটে ভালো কিছু করতে পারবেন, সেই আত্মবিশ্বাস ছোট্টবেলা থেকেই ছিল। দারিদ্রতার কারণে ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভয় পেতেন। মুশফিক তবু স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়ে যান একদিন। রাশেদ নামে এলাকার এক বড় ভাই লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে খেলতে নিয়ে যান। ওখানে খেলতে গিয়েই আসলে পথটা খুঁজে পান তিনি। বাবা-মা সংসারে স্বচ্ছলতার খোঁজে ঢাকায় এক গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তাই তো মাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়েই বাবা-মায়ের আদরবঞ্চিত মুশফিকের সবকিছু জুড়েই তার নানি। এমন একটি সংসারে ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখাটা রীতিমতো বাড়াবাড়িই। কিন্তু স্বপ্নটা মুশফিক দেখতে পেরেছিলেন নানির কারণেই। কাতারে থাকা মামাও পাশে ছিলেন।

নানি-মামার ঋণ তো আর শোধ করতে পারবেন না। তবে ভালো খেলে এর প্রতিদান দিতে চান মুশফিক। গত এক বছরে বড়দের ক্রিকেট খেলে ভালোই অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি। ঘরে এখন স্বচ্ছলতা ফিরেছে। এখন স্বপ্ন দেখেন জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরে পরিবারের মুখ আলোকিত করার। মুশফিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আগে তো স্বপ্ন দেখতে ভয় পেতাম। এখন ভয় পাই না। লড়াই করতে চাই। সবার দোয়াতে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি, লক্ষ্য থাকবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। আমাকে দিয়ে যেন আমার পরিবারকে সবাই চেনে। আমি এমন কিছু করতে চাই আমার মা-বাবার মুখ যেন উজ্জ্বল হয়। জাতীয় দলে যেন খেলতে পারি। আমার বাবা-মা,নানি, মামাদের আর্থিক কষ্ট যেন দূর করতে পারি।’