সবুজ উইকেট, তাও মিরপুরে? কথাটা শুনলেই কিছুটা ধাক্কা খাওয়ার কথা। কারণ, স্পিনস্বর্গ বলেই পরিচিত এই মাঠ। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে বাস্তবে সবুজ উইকেটের চিত্রই দেখা গেছে। ম্যাচের আগের দিন তাজা ঘাস রেখে দেওয়া হয়েছে। ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে কাটা ঘাসও। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানকে ভড়কে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট। বুধবার সকাল দশটায় আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। টেস্টটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টস।
পেসস্বর্গ বানিয়েও অবশ্য স্বস্তিতে নেই টিম বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আগেই ছিটকে গেছেন। ম্যাচের আগের দিন ছিটকে গেছেন ওপেনার তামিম ইকবালও। গত কয়েক দিন ধরেই অনুশীলনে অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। ম্যাচের আগের দিন তামিমের অনুশীলন পাখির চোখে পরখ করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে অস্বস্তি থাকায় তামিমকে ছিটকে যেতে হয়েছে। তামিমের পরিবর্তে ওপেনিং কে করবেন, তা নিয়েই চলছে জল্পনা। জাকির হাসান স্কোয়াডে আসায় সরাসরি নিজের পজিশনে ফিরছেন। তার সঙ্গী হতে পারেন মাহমুদুল হাসান জয়।
জয় ওপেনিংয়ে ফিরলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ওপেনিং করা নাজমুল হোসেন শান্তকে তিন নম্বরে খেলতে হবে। সাকিব না থাকায় তার জায়গায় খেলবেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের আগে মুমিনুল হককে দেখা যেতে পারে। ছয় নম্বর পজিশনে খেলবেন অধিনায়ক লিটন দাস। মেহেদী হাসান মিরাজ থিতু হচ্ছেন সাত নম্বরে। পরের পজিশন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। বাকি তিন পেসারের মধ্যে দুজন প্রায় নিশ্চিত। অভিজ্ঞ এবাদত হোসেনের সঙ্গে দেখা যাবে খালেদ আহমেদকেও। তবে তৃতীয় পেসার হিসেবে তাসকিন আহমেদ নাকি প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মুশফিক হাসান খেলবেন সেটা নিয়ে এখনও আলোচনা চলমান। ইনজুরি থেকে ফিরে তাসকিন রিহ্যাব প্রক্রিয়া শেষ করে দারুণ ছন্দে আছেন। তার প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্টও। তারপরও আসন্ন ব্যস্ত সূচির কথা চিন্তা করে তাসকিনকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অভিষেক হতে পারে মুশফিক হাসানের।
মিরপুরে এবার নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে নামছে। নামার আগে চার বছর আগে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষতটা নিশ্চয়ই মনে থাকবে লিটন, মুশফিক, মুমিনুলদের। চট্টগ্রামে স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েই আফগানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রশিদ খান জুজুর সামনে উড়ে যায় স্বাগতিকরা। ১১ উইকেট এবং ৭৫ রান নিয়ে বাংলাদেশকে একাই হারিয়ে দেন এই আফগানিস্তান। এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ। ঝুঁকেছে পেসবান্ধব উইকেটে। অনেকটা নবীন দলের বিপক্ষে নতুন এই কৌশল কতটা কাজে লাগে সেটাই দেখার।
চার বছর আগের দলটি থেকে বর্তমান দলটিতে পরিবর্তনও আছে আটটি। এছাড়া আফগানিস্তান দলের অন্তত ছয় ক্রিকেটার টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায়। এই অচেনা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নতুন পরিকল্পনা করা কঠিন হবে কিনা- এমন প্রশ্নে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘খুব ভালো প্রশ্ন। তাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড় সম্পর্কে আমরা খুব বেশি জানি না। যাহোক, আমরা প্রতিপক্ষের শক্তি ও সীমাবদ্ধতার দিকে ২৫ শতাংশ মনোযোগ দিচ্ছি। আর ৭৫ শতাংশ মনোযোগ দিচ্ছি আমরা কী করতে পারি সেদিকে।’
আঙুলের ইনজুরির কারণে সাকিব টেস্ট স্কোয়াডে নেই। তিনি না থাকলে দলের কম্বিনেশন সেট করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সাকিব থাকলে একজন বাড়তি বোলার কিংবা বাড়তি ব্যাটার নিয়ে মাঠে নামা যায়। লিটন যদিও টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের না থাকাকে বড় সমস্যা মনে করেন না, ‘অবশ্যই সাকিব ভাই দুই দিক থেকে ভারসাম্য এনে দেন। কিছু ওভার বোলিং পাবেন, ব্যাটিংও পাবেন। তাই সাকিব ভাই না থাকলে বিশেষ করে ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশি কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু টেস্টে আমাদের পর্যাপ্ত বোলার আছে।’
বাংলাদেশ দল নিজেদের পরিকল্পনায় অনড় থেকে জিততে মরিয়া হলেও আফগানিস্তান যে ছেড়ে কথা বলবে না সেটি দলটির কোচ জনাথন ট্রট ও অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদীর প্রচ্ছন্ন হুমকিতেই বোঝা গেছে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে ট্রট বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে খেলা যেকোনও দলের জন্য বাড়তি সুবিধা। তাছাড়া বাংলাদেশ দল অনেক টেস্ট খেলেছে, তারা অভিজ্ঞ দল হিসেবে কিছু সুবিধা পাবে। তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলবে। আমরাও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি, খেলোয়াড়রা অসাধারণ ট্রেনিং করেছে। তারা বাংলাদেশে টেস্ট খেলা নিয়ে রোমাঞ্চিত।’
শুধু কোচই নন, আগের দিন আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহও বলে গেছেন তারা জিততেই বাংলাদেশে এসেছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে এসেছি, ম্যাচটাও জিততে চাই।’