অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনীতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের সম্ভাবনাময় জায়গায় নিতে পেরেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সুপার সিক্সে আসার পর ব্যাটিংয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলো না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর জিম্বাবুয়েরও হৃদয় ভাঙলো স্কটল্যান্ড। সুপার সিক্সে ৩১ রানের জয়ে জিম্বাবুয়েকে বিদায় করেছে স্কটল্যান্ড। তাতে আয়ারল্যান্ড, ক্যারিবয়ীদের পর পূর্ণসদস্য দেশ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে নিজেদের যোগ্যতার জানান দিয়েছে স্কটিশরা।
এই জয়ের পর ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে স্কটল্যান্ড। ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলে দুই নম্বরে অবস্থান করছে। জিম্বাবুয়েরও সমান ৬ পয়েন্ট। কিন্তু রান রেটে পিছিয়ে তারা তিনে থেকেই টুর্নামেন্ট শেষ করছে। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। টেবিলের শীর্ষে থাকা শ্রীলঙ্কা নবম দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। এখন বাকি দশম দল।
অথচ এই ম্যাচ জিতলেই জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ নিশ্চিত ছিল। কিন্তু টানা দুটি বাছাই টুর্নামেন্টেই শেষ দুটি ম্যাচ হেরে মূল পর্ব বঞ্চিত হয়েছে তারা।
বুলাওয়েতে ২৩৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত হওয়া ম্যাচটি শ্বাসরূদ্ধকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল শেষ পর্যন্ত। কিন্তু শুরুটা যেভাবে তাতে এত দূর পর্যন্তও কল্পনা করা যাচ্ছিল না। টপের ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়েছেন আবার। ৯১ রানে পড়েছে ৫ উইকেট। সিকান্দার রাজা আউট হওয়ার পর মূল লড়াইটা চলে রায়ান বার্ল ও ওয়েসলে মেধেভেরের ব্যাটে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৭৩ রান যোগ করেন তারা। পঞ্চম উইকেটেও রাজাকে সঙ্গে নিয়ে বার্ল ৫৪ রান যোগ করেন। মেধেভেরে ৪০ রানে ফিরলেও একার লড়াইয়ে আশার সঞ্চার করছিলেন বার্ল। কিন্তু দলীয় ১৯৭ রানে মারকুটে এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে সব কিছুর ইতি টেনে দেন অফস্পিনার লিস্ক। অথচ এই বার্লই দারুণ ব্যাটিংয়ে আশা দেখাচ্ছিলেন। ফেরার আগে ৮৪ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটিতে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ের মার।
জিম্বাবুয়েকে শুরুতে কাঁপিয়ে দিতে বড় অবদান পেসার ক্রিস সোলের। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শুরুতেই ধসিয়ে দেন তিনি। তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। দুটি করে নিয়েছেন ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন ও মাইকেল লিস্ক।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা স্কটল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৩৪ রান করেছে। দারুণ শুরু করা স্কটিশদের এক পর্যায়ে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০২ রান। কিন্তু জিম্বাবুয়ের আঘাতে হঠাৎ ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে। ১৭০ রানে পড়ে যায় ৭ উইকেট! সেখান থেকে দলকে দুইশ পার করার বড় কৃতিত্ব অলরাউন্ডার মাইকেল লিস্কের। ৩৪ বলে ঝড়ো গতিতে ৪৮ রান করেন তিনি। লিস্কের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। তাছাড়া মার্ক ওয়াটের ১৫ বলে অপরাজিত ২১ রানও স্কোরবোর্ডকে ২৩৪ রানে নিয়ে যেতে অবদান রাখে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪১ রানে ৩ উইকেট নেন বামহাতি শন উইলিয়ামস। ৪৬ রানে দুটি নেন টেন্ডাই চাতারা।