টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরে ফিরে এলো ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের অবসর নাটক। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য এই ইস্যু নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে জানিয়ে দিয়েছেন, দলে কিংবা ড্রেসিংরুমে এর কোনও প্রভাব পড়েনি।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের পরিবেশ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে সাকিবের সোজা-সাপ্টা উত্তর, ‘আসলে দেখুন, বাইরে থেকে অনেক সময় অনেক কিছু মনে হতে পারে। ড্রেসিং রুম আমার কাছে কখনও মনে হয়নি যে আমরা আনসেটেলড ছিলাম কিংবা এখন আছি। আবহ তো আমি সবসময়ই মনে করি ভালো আছে।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদশে। প্রথম ম্যাচের আগেই তামিমের ফিটনেস নিয়ে বক্তব্য ঝড় তুলেছিল। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তামিমের অবসর নাটকের পর এলোমেলো বাংলাদেশের দেখা মেলে। তাতে স্বাভাবিক ভাবেই সিরিজ খোয়াতে হয়েছে স্বাগতিকদের। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল হিসেবে ভালো করতে মরিয়া বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন খোলা মন নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তারা, ‘আমার কাছে মনে হয়, দল হিসেবে তখনই ভালো খেলি যখন অন্য দল নিয়ে চিন্তা না করি। যখন খোলা মন নিয়ে থাকি, নিজেদের খেলাটায় কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবি এবং নিজেদের জায়গা থেকে সবাই ১০ বা ২০ শতাংশ উন্নতি করা যায় সেই চিন্তা করি, আমার কাছে মনে হয় দলটা তখনই পারফর্ম বেশি করে। আর তখনই একটু নার্ভাস থাকি বা অত ভালো পারফর্ম করতে পারি না যখন কন্ডিশন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করি এবং অনেক বেশি প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করি। আমার কাছে মনে হয়, ওই জিনিসটা আমরা যত কম করতে পারবো তত আমাদের জন্য ভালো।’
ওয়ানডে সিরিজে আধিপত্য ছিল আফগানিস্তানের। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এই দলটি আরও ভয়ঙ্কর। সাকিব সেটি জানেন। তার পরও টি-টোয়েন্টি সিরিজের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘প্রতিটি সিরিজই একটা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে চ্যালেঞ্জটি আরও বেশি হয়। কারণ, সব দলের সমান সুযোগ থাকে। এখানে আসলে বড় দল, ছোট দল আছে বলে মনে হয় না। যে কোনও দল যে কাউকে হারাতে পারে বা ক্ষমতা রাখে। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি এবং এই চ্যালেঞ্জটাই আমাদের উপভোগ করার বিষয়। প্রতিবার নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। যখন ইংল্যান্ডের পর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলেছি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৩-০ তে জিতলেও আয়ারল্যান্ডের কাছে একটা হেরেছি। চ্যালেঞ্জ আসলে টি-টোয়েন্টিতে অনেক বেশি এবং এই চ্যালেঞ্জই এই সংস্করণটাকে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং করে তোলে। আমাদের সামনে অবশ্যই বড় একটা চ্যালেঞ্জ, দুটি ম্যাচ আছে।’