ইমার্জিং এশিয়া কাপ

আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ইমার্জিং এশিয়া কাপে হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলের কাছে হারের পর ওমানের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে এক জয়ে সেমিফাইনাল খেলার পথটা কঠিন হয়ে উঠেছিল। তবে মঙ্গলবার আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে ২১ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেলো।

গ্রুপে তিন খেলা শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট চার, আপাতত তারা শীর্ষে। সমান পয়েন্ট আফগানিস্তানের। কিন্তু নেট রান রেটে তারা পিছিয়ে থেকে দুইয়ে। ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা শ্রীলঙ্কা যদি ওমানের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে জিতেও যায় এবং সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে বাংলাদেশকে পেছনেও ফেলে, তাতেও লাল সবুজ জার্সিধারীদের সেমিফাইনাল ঝুঁকিতে পড়বে না।

পি সারা ওভালে ৩০৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামে আফগানিস্তান। বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছেই ছিল। তবে দলের পেসার রিপন মণ্ডলের নখদন্তহীন বোলিংয়ে সুযোগ নিচ্ছিল আফগানিস্তান। কিন্তু রাকিবুল হাসান, তানজিম হাসান সাকিব ও সৌম্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ রক্ষা হয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। সাকিবের বলে ছক্কা দিয়েই শুরু করেছিল আফগান ব্যাটার। পরের বলে জিয়া আকবরকে ফিরিয়ে জয়ের পথটা করে দেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭৮ রানে থামে আফগানিস্তানের ইনিংস।

আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন রিয়াজ হাসান। এছাড়া বাহির শাহ অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। নূর আলী জাদরান ও শহীদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রানের ইনিংস। 

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব দলের সেরা বোলার। ৬৭ রানে তার শিকার তিনটি উইকেট। এছাড়া রাকিবুল, সৌম্য দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ৯৩ রান খরচায় রিপন নেন একটি উইকেট।

টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার গড়তে পারেননি বড় জুটি। দুজনই ফেরেন অল্পতে। অধিনায়ক সাইফ হাসানও ৪ রান করে আউট হন। ৩৪ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয় মিলে ১১৭ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় কাটাতে ভূমিকা রাখেন। 

জাকির ৬২ রান করে ফিরলেও জয় পৌঁছেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। ২ চার ও ১২ চারে ১১৪ বলে ঠিক ১০০ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বলে রিয়াজ হাসানের ক্যাচ হয়ে বিদায় নেন জয়। শেষদিকে সৌম্য সরকারের ৪২ বলে ৪৮ এবং মেহেদী হাসানের ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রান তোলে।
 
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ সেলিম ৬৫ রানে নেন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জিয়াউর রহমান ও ইজহারুল হক নাভিদ নেন একটি করে উইকেট।

আগামী শুক্রবার একই ভেন্যুতে প্রথম সেমিফাইনাল। বাংলাদেশ লড়বে অন্য গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা ভারত কিংবা পাকিস্তানকে।