বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে কঠিন সময় পার করছিলেন জেমিমাহ রদ্রিগেজ। ভারতের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও প্রথম ওয়ানডে মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল ২৮! দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটারের এমন দশায় দুশ্চিন্তার মাঝে পড়ে যায় ভারতীয় শিবির। রবিবার সিরিজ হারের শঙ্কায় থাকা ভারতের সিরিজে ফেরার নায়ক তিনি। ব্যাট হাতে ৮৬ রানের পর বল হাতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। পরে জেজিমাহ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার এমন সাফল্য না পারার হতাশা থেকে!
বুধবার ম্যাচসেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেমিমাহ বলেছেন, ‘আমার রাগ ছিল না, হতাশা কাজ করছিল। কারণ, আমি জানতাম দলের জন্য কী করতে পারি। আমি মুম্বাইয়ে খেলেছি, মুম্বাইয়ের কন্ডিশন মন্থর। আমার দলে কেউ যদি এমন কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত থাকে সেটা হলাম আমি। দলের জন্য দায়িত্ব নিতে না পেরে আমার মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছিল।’
মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা জেমিমার ক্ষোভের কারণ ছিল পরিচিত কন্ডিশনেও ভালো করতে না পারা, ‘আজও আমার বড় রানের প্রতি মনোযোগ ছিল না। শুধু হারমানপ্রীতকে বলেছি আমাদের একটি জুটি গড়া প্রয়োজন। আমরা খেলেছি, জুটি গড়েছি এবং আমাদের দল জিতেছে। আমি মনে করি এটা আমাকে চাপ (রান করতে হবে) থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেছে।’
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে স্বস্তি ঝরেছে জেমিমাহর কণ্ঠে, ‘আপনারা জানেন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ছিলাম। জানি ক্রিকেট কেমন। সবাই এখানে জিততে এসেছি। আমরা সব সময় চিন্তা করেছি কীভাবে ডমিনেট করা যায় এবং নিশ্চিত করেছি বোলিংয়ে আধিপত্য দেখাতে। তাই যদি ওদের বোলিং নিয়ে কথা বলি, দারুণ বোলিং করেছে। সঙ্গে আবহাওয়া ওদেরকে দারুণ সমর্থন দিয়েছে। এই বিষয়টা মাথায় রাখলে আমরা ভালো বোলিং করেছি।’
জেমিমাহ ২৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন। তার মধ্যে মাত্র তিনবার বোলিং করেছেন। সর্বশেষটি ছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। তাও আবার ১ ওভার। প্রথমবারও করেছিলেন ১ ওভার। বুধবার বাংলাদেশের বিপক্ষে বোলিংয়ে নেমে আগের সব কিছু পাল্টে দিলেন তিনি। চার বছর পর ৩.১ ওভার বোলিং করে তুলে নেন চার উইকেট। নিজের সাফল্যে মোটেও বিস্মিত নন ভারতের তরুণ এই ব্যাটার, ‘আমি মোটেও বিস্মিত নই। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলন করছি। দলের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অধিনায়ক আমাকে বোলিংয়ের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। আমি মনে করি পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। বোলিং করতে ভালোবাসি। আগামীতে সুযোগ পেলে বোলিংয়েও অবদান রাখতে চাই।’