ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় হারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ

জস বাটলার টসের সময় জানিয়ে দেন তার বোলারদের কিছু ওভার দেবেন। তার আস্থার প্রতিদান দিতে ভুল করেননি ইংল্যান্ডের বোলাররা। ৯ জন বল নিয়ে হাত ঘুরালেন। তাতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। প্রথম ম্যাচের মতো আবারও দারুণ মার্ক পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিদ হাসান তামিম।

আর কোনও ব্যাটার তাদের ধারেকাছেও ছিল না। সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন মিরাজ। তানজিদের ব্যাটে আসে ৪৫ রান। আর কেবল দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন মাহমুদউল্লাহ (১৮) ও তাসকিন আহমেদ (১২)। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে ৩৭ ওভারের ম্যাচে  ৯ উইকেটে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের পক্ষে রিস টপলি সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে পান ডেভিড উইলি ও আদিল রশিদ।  

লক্ষ্য খুব বড় ছিল না। বৃষ্টি আইনে সংশোধিত হিসাবে ৩৭ ওভারে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৭ রান। ব্যাটিংয়ে আগ্রাসী মানসিকতায় খেলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেখানেও সফল।

প্রথম বলেই চার মেরে দলের রানের খাতা খোলেন জনি বেয়ারস্টো। মোস্তাফিজুর রহমানের পঞ্চম বলে চার মেরে রানের চাকা সচল করেন ডেভিড মালানও। এরপরই ভেঙে যায় ৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। মালানকে (৪) তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। 

পরের তিন ওভারে জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে জনি বেয়ারস্টো ঝড় তুলে ৪২ রান যোগ করেন। মোস্তাফিজ তাকে বোল্ড করে স্বস্তি ফেরান দলের পঞ্চম ওভারে। ২১ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৩২ রান করেন বেয়ারস্টো।

এই আগ্রাসী শুরুতে ভর করে ইংল্যান্ড মাত্র ১০ ওভারে ১০০ রান জমা করে স্কোরবোর্ডে, ৩ উইকেটের বিনিময়ে। চারটি চার মেরে ১৭ রান করা হ্যারি ব্রুককে অষ্টম ওভারে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ।

রুট সতর্ক ব্যাটিং করলেও অন্য প্রান্তে জস বাটলার ছিলেন আক্রমণাত্মক। ১৫ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩০ রান করার পর তাকে থামান শরিফুল ইসলাম। মুশফিকুর রহিমের হাতে জীবন পাওয়া লিয়াম লিভিংস্টোন মাত্র ৭ রান করে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হয়ে তাসকিন আহমেদের শিকার।

আর পেছনে ফিরতে হয়নি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। এর মধ্যে তানজিম হাসান সাকিবকে ১৯তম ওভারে দুটি চার ও এক ছয়ে ১৪ রান ও ২২তম ওভারে দুটি ছয়ে ১২ রান তুলে মঈন আলী জয়ের কাজ সহজ করে দেন। ধীরে খেলা রুটের সঙ্গে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েন তিনি। পরের ওভারে ৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন মঈন। নাসুম আহমেদকে লং অন দিয়ে ছক্কা মারার পরের বলে থামতে হয় ইংলিশ ব্যাটারকে। ৩৯ বলে দুটি চার ও ছয়টি ছয়ে ৫৬ রান করেন মঈন। জিততে তখন দরকার মাত্র চার রান। ক্রিস ওকসকে নিয়ে এগিয়ে যান রুট। ২৪তম ওভারের প্রথম বলে তার ব্যাটে আসে জয়সূচক দুটি রান।

২৪.১ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৭ রান করে ইংল্যান্ড। জিতে গেছে চার উইকেটে।

বাংলাদেশ আট জনকে দিয়ে বোলিং করিয়েছে। সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। বাকি সবাই ছিলেন খরুচে। একটি করে উইকেট নেন হাসান, শরিফুল ও তাসকিন।

আগামী ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ উদ্বোধন করবে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। দুই দিন পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।