অসাধারণ মিরাজ, দূরদর্শী সাকিবে মনোমুগ্ধকর জয়

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ভারতের মাঠে ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য বহুদূর। আজ ধর্মশালায় সেই শুরুটা হয়েছে দারুণ, আশা জাগানিয়া। এক কথায় মনোমুগ্ধকর জয়। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও আফগানিস্তান মাঠের লড়াইয়ে  বলতে গেলে দাঁড়াতেই পারেনি। ৬ উইকেটে জিতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। 

অথচ ম্যাচ শুরুর আগে কত কথার ফুলঝুরি। আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু ভারতে। তাদের সাত জন খেলোয়াড় আইপিএল খেলে। ভারতের পিচ তাদের বেশ চেনা জানা। আজ ধর্মশালায় আফগানদের কোনও অভিজ্ঞতাই কাজে লাগতে দেননি সাকিব আল হাসান-মেহেদি হাসান মিরাজরা।

বাংলাদেশ যে ধারে এগিয়ে সেটারই প্রমাণ মিলেছে। যদিও ব্যাট করতে নেমে রহমানউল্লাহ-ইবরাহিমরা লড়াই করার মতো পুঁজির চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। সাকিবের দূরদর্শী অধিনায়কত্বে ১৫৬ তে ইনিংস থেমে যায়। সাকিব-মিরাজ মিলে আফগানিস্তানের মেরুদন্ড ভেঙে দেন। দুজনের স্পিন জাদুতে বেকায়দায় নবী-মুজিবরা।

যেই রশিদ খান-নবীদের  নিয়ে আলাদা করে ভয় ছিল। ব্যাট করতে নেমে অনায়াসে তাদের উড়িয়ে দিয়ে ৩৪.৪ ওভারে জয়ের ভেলায় চড়ে বন্দরে পৌঁছে যায় লাল সবুজ দল।  উইকেট খরচা করতে হয়েছে মাত্র চারটি।

তবে ২৫ ওভারের মধ্যে আফগানদের টার্গেট অতিক্রম করতে পারলে নেট রান ভালো অবস্থায় থাকতে পারতো। তারপরও জয় বলে কথা। নিশ্চয়ই সামনের ম্যাচে আরও শাণিত হয়ে খেলবে দল।

মিরাজ-নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। মিরাজ তো অসাধারণ। সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা তার হাতেই যে মানায়।

বিশ্বকাপে আশাতীত পারফরম্যান্স করতে আসা বাংলাদেশের শুরুটা হওয়ার কথা ছিল এমনই কিছু। যেন সামনের দিকে চলার পথে দারুণ উজ্জীবনী শক্তি মিলে। এমনিতে বিশ্বকাপের আগে তামিম ইকবাল ইস্যুতে নানান ঘটনায় জেরবার দল। সব ঝেরে আজ উদ্ভাসিত এক জয়ে তা যেন ম্লান। 

আর এটাই যে খুব প্রয়োজন ছিল। ১৭ কোটি সমর্থক তো এমন পারফরম্যান্সই চাইছে। সাকিব যে দলে বাইরের ঘটনার রেশ পড়তে দেননি, তা আফগানদের ম্যাচে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।
এই দল যে বহুদূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তা এখনই বলে দেওয়া যায়। ধর্মশালায় মঙ্গলবার রয়েছে শক্তিধর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। রুট-বাটলারদের বিপক্ষে জ্বলে ওঠার রসদ বুঝি পেয়েই গেলেন সাকিব-মুশফিকরা।