‘আমরার জাকের তো ফাটাই দিছে কাইল। আগরদিন গেছি না, বাদর ম্যাচ যাইমু। জাকেরর লাগি গলা ফাটাইতে অইবো।’ চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে দুই তরুণ এভাবেই আলাপ করছিলেন। সিলেটে বিভাগ থেকে উঠে এসেছেন জাকের আলী অনিক। সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিং করে দলকে জেতাতে না পারলেও গ্যালারি মাতিয়েছেন তিনি। সিলেটে সাধারণত টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়, কিন্তু আগের ম্যাচে এর ছিটেফোঁটা ছিল না। তবে বুধবার যে গ্যালারি ভরবে সেটি চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্টের আলোচনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হয়েছে ৩ রানের হার দিয়ে। শ্রীলঙ্কার করা ২০৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ করতে পারে ২০৩ রান। শ্রীলঙ্কার শেষের ব্যাটিং ও শুরুর বোলিংয়ের কাছেই মূলত হেরেছে বাংলাদেশ। তবে জাকের ও মাহমুদউল্লাহ খাদের কিনারায় থাকা দলকে নিয়ে যেভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তা ছিল অসাধারণ। মাত্র ২৭ বলে ৬৫ রান তুলে শেষ দিকে ম্যাচে রোমাঞ্চ তৈরি করেছেন এই জুটি। দুজনই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। মাহমুদউল্লাহ ৫৪ এবং জাকের ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি তারা।
বুধবার আরও নতুন একটি ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সিরিজে ফিরতে এই ম্যাচটি জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। নাজমুল হোসেন শান্তর দল আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিশ্চিতভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে। ম্যাচের আগের দিন কোনও দলই অনুশীলন করেনি। হোটেলে সুইমিং আর হালকা জিম করেই দিন কেটেছে ক্রিকেটারদের। পুরোপুরি ফুরফুরেই হয়ে ২২ গজে সিরিজ জয়ের মিশনে নামবে লিটন-হৃদয়রা।
ক্রিকেটারদের মতো দর্শকরাও প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘লড়াইয়ে’ ফেরার। প্রথম ম্যাচে সিলেটে স্টেডিয়ামে খুব বেশি দর্শক হয়নি। ১৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ছয় হাজারের মতো দর্শক ছিল। তবে প্রথম ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মনে ধরেছে দর্শকদের। যারা টিভিতে বসে কিংবা মোবাইলের মাধ্যমে খেলা দেখেন বা খেলার খবর নিয়েছেন, তাদের অনেকেই দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে যাবেন। শহরের বিভিন্ন জায়গাতে আগের দিনের ম্যাচ নিয়ে সিলেটের মানুষকে আলোচনা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ছেলের পারফরম্যান্সের পর দল জিততে না পারায় হতাশ স্থানীয় দর্শকরা। তবে বুধবার দল বেঁধে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই।
সিলেটে প্রথম ম্যাচে দর্শক কম দেখে বিস্মিত হয়েছেন বিসিবির পরিচালক, সিলেট আঞ্চলিক ক্রিকেট কমিটির আহ্বায়ক ও উইমেন্স কমিটির চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তার মতে বিপিএলের পর রমজানের ব্যস্ততার কারণে শহরের মানুষ হয়তো আগ্রহ প্রকাশ করেননি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমিও খুব সারপ্রাইজড হয়েছি। হয়তো কেবল বিপিএল শেষ হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ইস্যু কাজ করে। রমজান সামনে। রমজান কেন্দ্রিক ব্যস্ততাও কিছু আছে- এই কারণে দর্শক কম হতে পারে।’
প্রথম ম্যাচে দর্শক কম হলেও পরের ম্যাচগুলোতে গ্যালারি ভরা থাকবে বলে মনে করেন নাদেল। ঘরের ছেলের এমন পারফরম্যান্সের পর সিলেটের দর্শকরা ঘরে বসে থাকতে পারে! তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কালকে (সোমবার) বাংলাদেশে যেভাবে পারফরম্যান্স করেছে। ঘরের ছেলে জাকেরের যে পারফরম্যান্স- তাতে করে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি হবে। ইতিমধ্যে আমার কাছেও টিকিট নিয়ে বেশ কিছু ফোন এসেছে। আমি নিশ্চিত আগামী দুই ম্যাচে আমরা টিকিটের কারণে অনেক চাপে পড়বো।’