ছোট ভাই জাকের আলীকে নিয়ে বড় বোন শাকিলা ববি স্বপ্ন দেখতেন, তিনি একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চ মাতাবেন। সেই স্বপ্নটা গত বছর পূরণ হলেও জাকের ‘আসল’ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। ওইদিন ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে গ্যালারি মাতিয়েছেন। স্বপ্ন পূরণ করেছেন বোনসহ পুরো পরিবারের। শনিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পেশাদার সাংবাদিক শাকিলা ছোট ভাইয়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। পরে জাকের নিজেও কয়েক মিনিটের জন্য হয়ে গেছেন সাংবাদিক।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি অফিসিয়াল পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে শাকিলা ও জাকের পরস্পরের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ভিডিওর শুরুতেই আয়োজনের নতুনত্বের বিষয়টি সামনে আনেন বিসিবির মিডিয়া বিভাগের সহকারী ম্যানেজার জাহিদ চৌধুরী। শাকিলার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে জাকের বলেছেন, 'অনুভূতিটা অনেক ভালো। সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল, জাতীয় দলের হয়ে খেলবো, ম্যাচ জেতাবো। তো সবকিছু মিলিয়ে ভালো লাগছে।'
জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জাকের আরও বলেছেন, ‘জাতীয় দলের আবহটা আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে, প্রথম দিনই সবাই আমাকে যেভাবে বরণ করেছে, এই জিনিসটা আমার কাছে খুব স্পেশাল ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি স্পেশাল কেউ।'
গত বছরএশিয়ান গেমসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে হোম গ্রাউন্ডে ‘আসল’ শুরুটা হয়েছে জাকেরের। অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলে লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়টা ছিনিয়ে নিতে নিতে শেষ বেলায় আউট হন তিনি। দল হারলেও জাকেরের ঝড়ো পারফরম্যান্স সেদিন কুড়িয়েছিল প্রশংসা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভাইয়ের খেলা মাঠে বসে উপভোগ করেছিলেন শাকিলা। ওই দিন ভাই-বোনের স্বপ্ন পূরণের রাতে তিন রানের অতৃপ্তি সঙ্গী হয়েছে।
জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে ভূমিকা রাখায় বাবা ও ভাইয়ের পাশাপাশি বোনকে কৃতিত্ব দেন জাকের। সেই সঙ্গে নিজের দায়িত্ব তুলে ধরেন, 'সবারই ভূমিকা ছিল। বাবার ভূমিকা ছিল, ভাইয়ের ভূমিকা ছিল, আপনারও ভূমিকা ছিল। আপনি অনেক কষ্ট করেছেন, আমাকে অনুশীলনে নিয়ে গেছেন। আসলে কারও ভূমিকা ছাড়ার মতো উপায় নাই। সবারই স্বপ্ন ছিল আমাকে এই জায়গাতে দেখার। এখন আমার দায়িত্ব, কীভাবে আমি আরও সামনের দিকে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, নিজের দেশকে জেতাতে পারি। আমার মনে হয়, কাজটা আরও বেড়েছে। আমি ওই প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবো।'
সাক্ষাৎকার দেওয়া শেষ করে এবার বুম হাতে নেন জাকের। বোনকে প্রশ্ন করেন ছোট ভাইকে জাতীয় দলে দেখে আপনার অনুভূতি কী? শাকিলার জবাব আসে, 'এই অনুভূতি আসলেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। অনেক দিন যাবৎ চেয়েছিলাম, সেই ছোটবেলা থেকেই। এটা অনেক ভালো লাগার মুহূর্ত। আপনিও ভালো বুঝবেন। কারণ আপনি জানেন, আমাদের ইচ্ছা কতটা প্রকট ছিল। প্রেসবক্সে বসে চোখে পানি চলে আসছিল। বারবার মুছছিলাম। বাসার সবাই কান্না করছিল আপনাকে টিভিতে খেলতে দেখে।'