থুসারার প্রথম ওভারেই হেরে গেছে বাংলাদেশ: শান্ত

নতুন বল হাতে নিয়েই দারুণ এক স্পেল করলেন নুয়ান থুসারা। ইনিংসের চতুর্থ এবং তার প্রথম ওভারেই বাংলাদেশ তিনটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহকে তুলে নিয়ে লঙ্কান পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। পরেও আরও দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দেন এই পেসার। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শান্ত শিকার করেছেন তার বোলিংয়ের কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ।

২ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে তিনটিই থুসারার। এমন কন্ডিশনে ম্যাচে ফেরা বেশ কঠিন। শেষ দিকে রিশাদ-তাসকিনের ঝড়ে হারের ব্যবধান কেবল কমেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু পারেনি, হেরেছে ২৮ রানের ব্যবধানে। এই হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত জানিয়ে গেছেন, থুসারার প্রথম ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন তারা।

এক ওভারেই কি ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেছেন, ‘হ্যাঁ আমারও তাই মনে হচ্ছে। খুবই ভালো ওভার করেছে। আমার মনে হয় বোলারটাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। হ্যাঁ, ওই এক ওভারেই আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি।’ 

প্রথম ওভারেই যা একটু সুইং পেয়েছেন থুসারা। পরের তিন ওভারে আরও দুটি উইকেট নিলেও তাকে মোকাবিলায় খুব বেশি সমস্যা হয়নি ব্যাটারদের। মূলত নতুন বলে সুইংয়ের কারণে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। শান্ত সেটাই মনে করেন, ‘ওই ওভার (প্রথম) যদি আমরা আরেকটু ভালো খেলতে পারতাম, শুরুর দিকে যদি নতুন বলটা আরও ভালোভাবে খেলতাম, ভিন্ন কিছু হতে পারতো হয়তো।’

ইনজুরির কারণে মাথিশা পাথিরানাকে শেষ ম্যাচে একাদশে খেলানো হয়নি। তার বদলেই আজকে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে থুসারার, যিনি অনেকটা মালিঙ্গার মতোই বোলিং করেন। মালিঙ্গার শহরে তার তত্ত্বাবধানে থেকে বেড়ে উঠেছেন থুসারা। মালিঙ্গার মতোই ভিন্ন অ্যাকশনে বোলিং করেন। তার অ্যাকশনেই কারণেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন শান্ত। কিন্তু তার ভিডিও ফুটেজ দেখে ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ, ‘আমাদের প্রস্তুতিতে পরিষ্কার ছিলাম। তার বোলিং ভিডিও সম্পর্কে অবগত ছিলাম। জানতাম যে তার খেলার সম্ভাবনা আছে।‘

বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত আরও বলেছেন, ‘ওর (থুসারা) অ্যাকশনটা একটু অন্যরকম। একটু সুইং পাচ্ছিল, ওর অ্যাকশনের সঙ্গে। আর বলটা ওতো বাউন্স পাচ্ছিল না, যেহেতু সাইড আর্ম অ্যাকশন। বলটা একটু নিচে থাকে। তার সঙ্গে সুইং ছিল। এই ধরনের বল আমরা খুব বেশি খেলি না। আগের দুই ম্যাচে পাথিরানাকে ভালোভাবেই সামলেছি। আমার মনে হয় শুরুর দিকে বলটা সুইংও করছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এরকম চ্যালেঞ্জ মেনে নিতে হবে এবং কীভাবে আমরা আরও ভালো করতে পারি সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।’

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও এখান থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই নিচ্ছে বাংলাদেশ। শান্ত বলেছেন, ‘সবমিলিয়ে সিরিজে আমার মনে হয় অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। যেভাবে উইকেট হারানোর পরেও আমরা ফিরে এসেছি। প্রথম ম্যাচ এবং এই ম্যাচে। বোলাররা আজকের (শনিবার) ম্যাচে যেভাবে কামব্যাক করেছি, অনেক ইতিবাচক দিক আছে, যা ভবিষ্যতে কাজে আসবে।‘