বিপিএলে রান খরায় ভুগেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সিলেট স্টাইকার্সের হয়ে ১৭৫ রান করেছিলেন। ছিল না কোন ছয়! এমন অফফর্ম নিয়েই লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান করার পর ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন দারুণ সেঞ্চুরিতে। অধিনায়ক হিসেবে ১২২ রানের ইনিংস খেলে গড়েছেন রেকর্ড। বাংলাদেশের কোনও অধিনায়কের এটাই সর্বোচ্চ। অসাধারণ এই ইনিংসের পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম জানালেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন জাতীয় দলে এলেই ফর্মে ফিরবেন শান্ত।
দারুণ সেঞ্চুরির পর শান্তকে নিয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘বিপিএলে রান পায়নি, ওটা ভিন্ন সংস্করণ। এটা আরেকটা। একটা মানুষের ওপর যখন দায়িত্বটা বেশি থাকে, সব কিছু নিয়ে চিন্তা করে। আমার মনে হয় কিছু কিছু মানুষ থাকে তখন সেরা খেলাটা খেলে। ও (শান্ত) এমন একজন মানসিকতার ছেলে, যত দায়িত্ব পায় সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়, ওভারকাম করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে ও জাতীয় দলে যখনই আসবে, তখনই রান করা শুরু করবে।’
মুশফিক মনে করেন, দায়িত্ব পেয়েই জ্বলে উঠছে শান্ত, ‘আবহটা খুব জরুরি। আমরা কখনো আউটকাম নিয়ে চিন্তা করি না। আবহ এমন রাখি সবার যার যার প্রক্রিয়া যাতে ঠিক থাকে। প্রক্রিয়া ঠিক রেখে যদি শূন্য করে সেটা একটা দিন হতে পারে। এগারোটা বা সাতটা ব্যাটার সবাইতো আর একশ করবে না। সে যতক্ষণ তার রুটিনে থাকবে....আমার কাছে মনে হচ্ছিল এটা সময়ের ব্যাপার (শান্তর রান পাওয়া)। যেটা বললাম নেতৃত্ব ওর এমন একটা জিনিস যেটা ও উপভোগ করে। চ্যালেঞ্জটা নিতে আগ্রহী থাকে সব সময়।’
বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৫৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৯২ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে শুরু হয় মুশফিকের লড়াই। পঞ্চম উইকেটে দু’জন মিলে অবিচ্ছিন্ন ১৬৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন। যদিও মাহমুদউল্লাহ ও শান্তর করা ৬৯ রানের জুটিটাকেই এগিয়ে রাখছেন মুশফিক, ‘আমাদের জুটি অবশ্যই অনেক ভালো হয়েছে। আল্টিমেটলি মূল জুটিটা করেছে রিয়াদ ভাই ও শান্ত। ওই সময় বলটা অনেক নতুন ছিল আর শিশির এতো প্রভাব ফেলেনি, সিম মুভমেন্ট হচ্ছিল। ওরা আর্লি উইকেট পেয়েছে। কিন্তু রিয়াদ ভাই ও শান্ত দারুণ ব্যাটিং করেছে। রানরেটটা ঠিকও ছিল। আমি ছিলাম, আমাদের ব্যাটারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছে। আমরা কখনই রানরেটে পিছিয়ে ছিলাম না। এমন কোনও ফ্যান্সি কিছু করার দরকারও ছিল না। শিশিরের কারণে তাদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছিল।’