দর্শকদের এই চাহিদা মেটাতে রেডিওগুলোরও প্রস্তুতি কম নেই। তারা ইতোমধ্যে ফেসবুক পেজের কাভার পাল্টে দিয়েছেন। চলছে আলাপ আলোচনা। এরমধ্যে রেডিও স্বাধীনের প্রস্তুতি তুলনামূলক বেশি। আর বেশিরভাগ শ্রোতা ভরসা রাখছেন বাংলাদেশ বেতারে। বেসরকারি রেডিওগুলোর এতো প্রস্তুতির পরও বাংলাদেশ বেতার কেন, জানতে চাইলে তারা বলছেন, খেলার সময় বেশি কিছু শুনতে সবসময় ভালো লাগে না। আর বেতারের ট্রান্সমিশন সবার আগে হয়। সেই কারণে সেখানেই কানটা রাখতে চাই।
পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচের দিন অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্যাংকার রাসেল মাহমুদ কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ঘুরে ঘুরে বাজার করছেন। দোকানিও এক কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে আরেক কান দিয়ে ক্রেতার কথা শুনছেন। খেলা চলছে বলে কেউই নিষেধ করছেন না কাউকে। বাংলাদেশের খেলা বলে কথা। এশিয়া কাপে এসে রেডিওগুলো কমেন্ট্রির মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষের কাছে। কাজ ফেলে যাদের টেলিভিশনের সামনে বসে পড়ার সৌভাগ্য হয়নি তাদের জন্য একমাত্র উপায় খেলার ধারাভাষ্য শোনা।
কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের নিজের রুমে একা বসে খেলা শোনেন ফৌজিয়া। তিনি একটু পরপর আপডেট দিতে থাকেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সেখানেই অন্য অনেকের সঙ্গে তার অনুভূতি ভাগাভাগি হয়। তিনি বলেন, হোস্টেলের অনেকেই টিভিরুমে গিয়ে খেলা দেখেন। কিন্তু অফিস শেষ করে এসে আর সেখানে যেতে মন চায় না। তাই একমাত্র ভরসা রেডিও। আর যাই হোক খেলাতো মিস করা যাবে না।
খেলার ধারাভাষ্য এবং বিশ্লেষণ প্রচার করা হবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে। এজন্য বাংলাদেশ বেতার, রেডিও স্বাধীন ৯২.৪ এফএম, রেডিও ধ্বনি তাদের ফেসবুক পেজে জারি রেখেছে উন্মাদনা। খেলা দেখার যেমন আলাদা আনন্দ আছে রাস্তায় কমেন্ট্রি শুনেও তার স্বাদ কিছুটা মিটিয়ে নেওয়া যায়। ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখার দায়িত্বে থাকেন যারা, তারা ইচ্ছা করলেই ঘরে ফিরে টিভি সেটের সামনে বসতে পারেন না। এমন উত্তেজনাময় ম্যাচের সময় কী করেন? ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, আমাদের ডিউটিতে কানে হেডফোন/ইয়ারফোন লাগানোর নিয়ম নেই। কিন্তু মনতো মানে না, রেডিওই ভরসা। এ সময় আমরা হয়তো একজন ডিউটি করি আরেকজন পাশে দাঁড়িয়ে রেডিও শোনে। সেখান থেকে আমরা শুনি।
রেডিও স্বাধীনের (৯২.৪ এফএম) সহযোগী নির্বাহী পরিচালক মীর রাব্বি বলেন, ‘আমাদের মূল শ্রোতার একটা বড় অংশ তরুণ। সময় সময় শ্রোতাদের কাঠামো বদলালেও খেলা এখন একটা জাতীয় উচ্ছ্বাস, উল্লাস, হাসি, আবেগের জায়গা, যেখানে সবাই এক। আনন্দটা আমাদের। সেখানে এই সরাসরি ধারাভাষ্য শ্রোতা পরিবারকে এক করে দিচ্ছে স্বাধীনের কাছে। এটাই বড় পাওয়া।’
এর আগে গেল জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-২০ ক্রিকেট সিরিজের ধারাভাষ্য দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। রেডিও ভূমি এফএম ৯২.৮-এ খেলা শুরুর আগে, মধ্য বিরতি এবং শেষ হওয়ার পর খেলা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। এবারও যুক্ত হয়েছেন নতুন নতুন কণ্ঠ।
/এজে/