বিশ্বকাপে বোলারদের হাতকড়া পরাতে মুখিয়ে নেপালের এই পুলিশ সদস্য

নেপালের বর্তমান দলটা তারুণ্য নির্ভর। সেই দলটারই ২৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার দীপেন্দ্র সিং এইরি আবার নেপালের পুলিশ সদস্যও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার নিজের রেকর্ড ভাঙা ব্যাটিং স্কিলটাকেই প্রয়োগ করে বড় স্বপ্ন বুনছেন।    

গত সেপ্টেম্বরের কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড নিয়ে যারা খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে এইরির নাম অজানা নয়। মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ২৭৩ রানের বিশাল জয়ে অবদান ছিল এই তরুণ অলরাউন্ডারের। যা আবার যে কোনও টি-টোয়েন্টিতে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। তাতে এইরির আশ্চর্যজনক অধ্যায়টি ছিল দ্রুততম ফিফটি। তাও আবার মাত্র ৯ বলে। তাতে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ১২ বলের হাফসেঞ্চুরির পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। যার অর্ধশতক এসেছে শুধু ৯ বলে। 

তার পর কাতারের বিপক্ষে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক ওভারে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬টি ছক্কা মারার নজির রেখেছেন। দারুণ ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি এইরির ফিল্ডিংও চোখ ধাঁধানো। দুর্দান্ত সব ক্যাচ আর রান আউটে মাঠে প্রভাব ফেলছেন তিনি। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হিমালয়ের দেশটিকে এখন গর্বিত করার মতো কিছু করে দেখানোর আশায় এইরি। নেপালের কান্তিপুর টেলিভিশনকে এই মাসের শুরুতে বলেছেন, ‘দলের জয় নিশ্চিত করতে আমি নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছি। সবার কাছ থেকে যে সমর্থনটা পাই, তাতে ভীষণ প্রেরণা পাই আমি।’

এইরিকে ডাকা হয় টাইগার নামে। সেই নাম থেকেও বাড়তি প্রেরণা পান বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘তারা আমাকে টাইগার নামে ডাকে, আর এটা আরও বেশি প্রেরণা দেয়। আমাকে আরও বেশি দেওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়, সেটা ১১০ ভাগ হলেও।’

১৯তম র‌্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্বকাপে গেছে নেপাল। নেপালের প্রধান নির্বাচক দীপেন্দ্র চৌধুরী মনে করেন, এবারে তাদের দলটিতে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন এইরি, ‘তার অফস্পিন হচ্ছে অন্যতম সেরা। তার ফিটনেস, নৈতিকতা, টিম স্পিরিটও ভীষণ লক্ষ্যণীয়।’

ভীষণ নম্র এবং লাজুক প্রকৃতির এইরি প্রথম ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। নেপালের পুলিশ বিভাগের সদস্য এই ক্রিকেটারের প্রতিভায় ভীষণ পঞ্চমুখ দীপেন্দ্র চৌধুরী। বলছিলেন, ‘সে খুবই নম্র এবং কম কথা বলে। হতে পারে সে এখন উদীয়মান। কিন্তু সে অসাধারণ প্রতিভাধর।’

বিশ্বকাপে নেপাল আছে গ্রুপ ‘ডি’ তে। সেখানে তাদের গ্রুপসঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের সেভাবেই প্রস্তুত করেছে তারা। তবে বাস্তবতাও মেনে নিচ্ছেন দলটির নির্বাচক। শক্তির বিচারে যে ছোট দল তারা, ‘আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে বাকিরা আমাদের চেয়ে ভীষণ ভালো দল। তার পরেও এটা খেলা। আমরা ভালো খেলার আশাই করি।’