প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নামা উগান্ডার যাত্রাটা সুখকর হলো না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বিধ্বস্ত হলো পূর্ব আফ্রিকার দলটি। আফগান পেসার ফজল হক ফারুকির গতির কাছে হার মেনে উগান্ডাকে ৫৮ রানে অলআউট হতে হয়েছে। তাতে ১২৫ রানের বড় জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আফগান দল। এই ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফাইফারের দেখা পেয়েছেন ফারুকি।
মঙ্গলবার আফগানদের বিপক্ষে করা ৫৮ রানের ইনিংসটি উগান্ডার ক্রিকেটে ইতিহাসের সর্বনিম্ন। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে অল আউট হওয়ার ইতিহাস আছে। নেদারল্যান্ডস দু’বার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯ ও ৪৪ রানে অলআউট হয়েয়ছে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ডের কাছে। এদিন উগান্ডার অভিষেক বিশ্বকাপে অস্বস্তিকর রেকর্ডের ভাগিদার করতে ভূমিকা রাখেন ফারুকি। বিপরীতে আফগানরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের জয় পেয়েছে। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানে জয়ের তালিকায় শীর্ষে শ্রীলঙ্কা। তারা কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৭ সালে জিতেছে ১৭২ রানের ব্যবধানে।
মঙ্গলবার আফগান পেসার ফারুকি ৪ ওভার বোলিং করে ৯ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়েছেন। বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটিই। ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মুজিব উর রাহমান। সব মিলিয়ে তালিকার চার নম্বরে এখন ফারুকি।
ফারুকির প্রথম ফাইফার ছাড়াও এই ম্যাচ থেকে আরও কিছু প্রাপ্তি আছে আফগানিস্তানের। উগান্ডার বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৫৪ রান সংগ্রহ করেছেন দুই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। এই জুটি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আফগানদের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। গত আসরে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস ও জস বাটলারের অবিচ্ছিন্ন ১৭০ রানের জুটিটি সর্বোচ্চ।
এর বাইরে আজ প্রথম পাওয়ার প্লেতে উগান্ডা ২১ রান সংগ্রহ করেছে। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রথম পাওয়ার প্লেতে যেকোনও দলের সর্বনিম্ন রান এটি। আফগানদের বিপক্ষে উগান্ডার টপ অর্ডার ৮ রানে হারায় তিন উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে সপ্তমবারের মতো কোনও দলের টপ অর্ডার দশ রানের নিচে ধসে পড়লো।