দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভড়কে দিলেও পারলো না যুক্তরাষ্ট্র

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করা দেশটির নাম যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছে আমেরিকান দলটি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে বিদায় করে সুপার এইটে খেলার সুযোগ করে নেয় তারা। বুধবার সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভড়কে দিয়েছিলো আইসিসির সহযোগি এই দেশটি। ওপেনার অ্যান্ড্রিস গাউস যেভাবে প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে উঠেছিলেন, মনে হচ্ছিল আরও একটি অঘটন বুঝি ঘটেই যাবে।  যদিও শেষ অব্দি তীব্র লড়াই শেষে ১৮ রানের ব্যবধানে হার মানে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৯ জুন) অ্যান্টিগুয়ার নর্থ সাউন্ডে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৯৫ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েছে প্রোটিয়ারা। জবাবে খেলতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেছিলো স্বাগতিক দল। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারালেও তুলে ফেলে ৫৩ রান। এরপর খানিকটা বিপর্যয়ে পড়ে তারা। ২৩ রানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন ওপেনার অ্যান্ড্রিস গাউস ও হারমিত সিং। দুইজন মিলে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে বল ও রানের ব্যবধানে কমিয়ে নিয়ে আসেন। ৪৩ বলে ৯১ রানের জুটির পর হারমিত বিদায়ে নিতেই চাপে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাকি সময়টাতে সেই চাপ থেকে বের হতে পারেনি তারা।  হারমিত ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৮ রান করে আউট হন।

শেষ দুই ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ২৮ রানের। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে হারমিত আউট হতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা নিতে পারে মাত্র দুই রান। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ২৬ রানের। পুরো সময়টাতে দারুন খেলতে থাকা অ্যান্ড্রিস চেষ্টা করেও পারেননি সমীকরণ মেলাতে। প্রোটিয়া পেসার আইনরিখ নর্কিয়ার শেষ ওভারে ৭ রান নিতে পারে। ফলে ১৮ রানের দারুন জয়ে সুপার এইট পর্ব শেষ করে প্রোটিয়ারা। এই জয়ে বিশ্বকাপে টানা জয়ের ধারা অব্যহত রাখলো তারা।  যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনার অ্যান্ড্রিস ৪৭ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে কাগিসো রাবাদা ১৮ রানে তিন উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া কেশব মহারাজ, আইনরিখ নর্কিয়া ও তাবরাইজ শামসি প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে অ্যান্টিগাতে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পায় প্রোটিয়া ব্যাটাররা। দলীয় ১৬ রানে সৌরভ নেথ্রালভাকারের বলে ওপেনার রিজা হেনড্রিকস বিদায় নেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ও কুইন্টন ডি কক মিলে প্রতিরোধ গড়েন। ৬০ বলে ১১০ রানের জুটি গড়ে বিস্ফোরক ইনিংস খেলা কুইন্টন আউট হলে জুটি ভাঙ্গে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৪০ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হন।

কুইন্টনকে ফেরানো হারমিত সিং পরের বলেই তুলে নেন ডেভিড মিলারের উইকেট। এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে নিয়ে মারক্রামরাম দলীয় স্কোরকে দুইশোতে নিয়ে যাওয়ার মিশনে নামেন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি প্রোটিয়া অধিনায়ক। নেথ্রালভাকারের বলে ৩২ বলে ৪৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর ক্লাসেন ও ত্রিস্টান স্টাবসের ৩০ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন বিস্ফোরক ইনিংসের উপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। ক্লাসেন ২২ বলে ৩৬ এবং স্টাবস ১৬ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের মধ্যে নেথ্রালভাকার ও হারমিত প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।