কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে এক রানের জন্য বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারেনি গ্ল্যামরগ্যান। ৫৯৩ রান তাড়া করতে নেমে শেষ বলে জিততে দলটির প্রয়োজন ছিল এক রান। কিন্তু গ্লুস্টারশায়ারের উইকেটরক্ষক জেমস ব্রেসলির দারুণ কিপিংয়ে গ্ল্যামরগ্যান অবিশ্বাস্য এই রেকর্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ম্যাচটিতে মোট ১ হাজার ৫৭৮ রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছে দুই দল। বিশ্বরেকর্ড না হলেও এতো রানের অভাবনীয় এক কীর্তি গড়েছে ম্যাচটি।
স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা ঘটেছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুলিপ ট্রফির ম্যাচে। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া দিনেশ কার্তিকের দক্ষিণাঞ্চলের দেওয়া ৫৩৬ রানের লক্ষ্য ইউসুফ পাঠানের ডাবল সেঞ্চুরিতে টপকে গিয়েছিল পশ্চিমাঞ্চল। ১৪ বছর পর গ্ল্যামরগ্যানের সুযোগ ছিল রেকর্ডটি নিজেদের করে নেওয়ার।
প্রথম ইনিংসে গ্লুস্টারশায়ারের ১৭৯ রানের জবাবে গ্ল্যামরগ্যানের ইনিংস থামে ১৯৭ রানে। অজি ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ১৮৪ ও ব্রেসলির অপরাজিত ২০৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৬১০ রান তোলে গ্লুস্টারশায়ার। তাতে গ্ল্যামরগ্যানের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৯৩ রান।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মারনাস লাবুশেনের ১১৯ ও অধিনায়ক স্যাম নর্থইস্টের ১৮৭ রানের সুবাদে জয়ের পথেই থাকে গ্ল্যামরগ্যান। কিন্তু দলীয় ৫৪৪ রানে স্যাম নর্থইস্টের আউটের পর চাপে পড়ে যায় তারা। তখনো জিততে ৪৯ রানের প্রয়োজন দলটির, হাতে ২ উইকেট। কিন্তু আরও ১৫ রান যোগ হতেই নবম উইকেট হিসেবে অ্যান্ডি গরভিনকে হারায় গ্ল্যামরগ্যান।
তবে ৫৬১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারতে থাকা ম্যাচে দশম উইকেটে ৩১ রানের জুটি গড়ে জয়ের কাছাকাছি গ্ল্যামরগ্যানকে নিয়ে গেছেন শেষ দুই ব্যাটার মেসন ক্রেন ও জেমি ম্যাকলরয়। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি রান। কিন্তু অজিত সিং দালির বলে ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে ফেলেন ম্যাকলরয়। দারুণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন উইকেটরক্ষক জেমস ব্রেসলি। আর তাতেই দুই দল মিলে গড়ে ফেলেন সর্বোচ্চ রানে টাই হওয়া ম্যাচের রেকর্ড। রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে না পারলেও প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তোলার ১২৮ বছরের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে নিজেদের করে নিতে পেরেছে গ্ল্যামরগ্যান। ১৮৯৬ সালে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে আগের সর্বোচ্চ ৫০৭ রান ছিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের।