বিশ্বকাপে এবারও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচ জিতলেও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স শঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে উন্নতির জন্য অনেকদিন ধরেই বিকল্প একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। অবশেষে সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় লিগ হবে টি-টোয়েন্টি ফনম্যাটে। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির চিফ কো-অর্ডিনেটর অব প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেওয়া মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এখনকার অবস্থায় হুট করে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব না।
এক প্রশ্নের জবাবে নান্নু বলেছেন, ‘ঘরোয়া লোকাল ক্রিকেটারদের জন্য যে টুর্নামেন্টগুলো আছে, এখন সেগুলোতে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে আরও কিছু ভালো খেলোয়াড় দরকার। কিছু আইডেন্টিফাইড খেলোয়াড় দরকার একেকটা প্লেসের মধ্যে, যাদেরকে নার্সিং করে আন্তর্জাতিকের জন্য তৈরি করা। তার সঙ্গে সঙ্গে এ খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা দিতে হবে। এখন আমাদের যে অবস্থা, এই অবস্থায় হুট করে বিশ্বকাপ জেতা কঠিন। একটা সময়ের দরকার। এই সময়ের মধ্যে যদি দলটাকে তৈরি করতে পারি। আগামী বিশ্বকাপে ভালো করার আশা করবো।’
নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে নান্নু আরও বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। হাই পারফরম্যান্সের অনুশীলন চলছে, সঙ্গে সঙ্গে টাইগার্সের প্রোগ্রাম চলছে। এটার সঙ্গে কিছু কাজ করছি এনসিএল নিয়ে। এনসিএলের টি-টোয়েন্টিটা হবে ডিসেম্বরের ৫ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। ইনশাআল্লাহ মৌসুমটা ভালো মতো শুরু করতে পারলে বাকি প্রোগ্রামগুলো ধাপে ধাপে শুরু হবে।’
বর্তমানে একই সঙ্গে চলছে হাই পারফরম্যান্স ও বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্প। তাদের মধ্যে থেকে একটি দল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে। দুই দলই এখন অনুশীলন করছে ঢাকায়। এই ক্যাম্পকে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নান্নু, ‘আমাদের ক্রিকেট তো পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। আমাদের তো এখনও সেন্ট্রালাইজড হয়নি। এটা যদি আপনি বলেন, আমাদের চারটা রিজিওনাল বোর্ড আছে। হাই পারফরম্যান্স ইউনিট থাকলে আপনি ৮০টা খেলোয়াড়কে নার্চার করতে পারতেন। তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্য খেলোয়াড়দের তৈরি করা যেতো।’
সাবেক এই ক্রিকেটার আরও বলেছেন, ‘এটা সরাসরি হবে না। রিজিওনাল বোর্ডগুলো কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, চারটা অন্তত শুরু হয়ে যাবে। তাহলে চার জায়গায় ক্রিকেট সেন্টার করে খেলোয়াড়দের উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে, খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানো যাবে। আমাদের যে সীমিতসংখ্যক খেলোয়াড় আছে, এখন তাদের নিয়ে আগাতে হবে।’