একটা সময় টিভির পর্দায় বড় বড় টুর্নামেন্টে আম্পায়ারদেরকে ম্যাচ পরিচালনা করতে দেখেছেন। এবার সুযোগটা নিজেই পাচ্ছেন সাথিরা জাকির জেসি। আগামী ১৯ জুলাই শ্রীলঙ্কায় বসবে নারীদের এশিয়া কাপ। এই টুর্নামেন্টে আম্পায়ার হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক এই নারী ক্রিকেটার ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন। এশিয়া কাপের মতো বড় ইভেন্টে আম্পায়ার হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
এশিয়া কাপে জেসির আম্পায়ারিং নিশ্চিত হলেও কয়টি ম্যাচ কিংবা কোন ম্যাচে দাঁড়াবেন সেটি প্রকাশ করা হয়নি। যেহেতু এশিয়া কাপে খেলা দেশগুলো থেকে আম্পায়ার নির্বাচিত হবেন, সেই হিসেবে বাংলাদেশের জেসির একাধিক ম্যাচে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কেন না ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশের আম্পায়ার হিসেবে তারই বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কথা!
এশিয়া কাপে আম্পায়ারিং করার সুযোগ পাওয়া জেসি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘প্রথমত এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে এশিয়া কাপে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছি। কারণ খুব তাড়াতাড়ি স্বপ্নটা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। গত এশিয়া কাপে আমি খুব কাছাকাছি ছিলাম দলের। ওই সময় যখন দেখেছি যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালেশিয়া থেকে মেয়ে আম্পায়াররা আম্পায়ারিং করছে; সেখানে বাংলাদেশ থেকে কেউ নেই, তখন থেকেই লক্ষ্য ছিল পরের এশিয়া কাপটা আমি করবো।’
স্বপ্নটা দ্রুততম সময়ে পূরণ হওয়াতে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘লক্ষ্য ছিল ঠিকই, কিন্তু স্বপ্নটা এত তাড়াতাড়ি পূরণ হবে জানি না। খুবই ভালো লাগছে। প্রথমত বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই আম্পায়ার্স কমিটিকে। অবশ্যই এই জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি অবদান মিঠু ভাই ও অভি ভাইয়ের। ওমর ভাই ছিলেন, মনি ভাই ছিলেন। সবাই সাপোর্ট দিয়েছেন।’
আইসিসিতে প্যানেলভুক্ত নারী আম্পায়ার আছেন তিন জন। এদের মধ্যে জেসিই কেবল এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন এশিয়া কাপে ভালো করতে পারলে বিশ্বকাপে তার সামনে সুযোগ থাকবে, ‘বিশ্বকাপের পরই বড় হচ্ছে এশিয়া কাপ। এশিয়ার জন্য তো অবশ্যই। যেকোনও বড় আসর চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু এশিয়ার সব বড় বড় দলগুলো একসঙ্গে, এর আগে কখনও করা হয়নি। এখানে সবার চোখ থাকবে। এশিয়া কাপে যদি ভালো করতে পারি, তাহলে বিশ্বকাপ হয়তো সুযোগ থাকবে।’
২৮ জুলাই পর্যন্ত এশিয়া কাপ হবে ডাম্বুলায়। যেখানে আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এর আগের আসর হয়েছিল সাত দলের। এশিয়া মহাদেশে নারীদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবার দল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে এবার সকল ম্যাচ অফিসিয়াল থাকছেন নারী।