পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড একেবারে বিবর্ণ। দুই দল সাদা পোশাকে মুখোমুখি হয়েছে ১৩ বার, বাংলাদেশ হেরেছে ১২টিতে, অন্যটি ড্র। ১৪তম ম্যাচে এসে কি ইতিহাস তৈরি করতে পারবে নাজমুল হোসেন শান্তরা? বলার অপেক্ষা রাখে না, উত্তরটা হ্যাঁ বানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে মুশফিক-সাকিবরা। এই লক্ষ্যে বুধবার রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে তারা। বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে ম্যাচ, খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের চ্যানেল গাজী টিভি।
প্রায় তিন বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দেখা হচ্ছে। আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত এই দুই ম্যাচ।
২০০১ থেকে শুরু করে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, ‘এটা কেবলই রেকর্ড, যা পরিবর্তন করা যায়। যদিও কাজটা সহজ হবে না। তবে যেটা বললাম, আমাদের দল খুব ভারসাম্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এবার বিশেষ কিছু করতে পারবো। ক্রিকেটাররা এখানে খেলার জন্য রোমাঞ্চিত।’
বাংলাদেশের বর্তমান পারফরম্যান্স যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে সত্যিকার অর্থেই কাজটা সহজ নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ছন্নছাড়া। ব্যাটিংই এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা। নিজেদের উন্নতির জন্য শান্তরা অবশ্য কাজ করে যাচ্ছেন। এই টেস্টে ভালো কিছুর আশা দেখালেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘আলাদা করে কোনও কিছু করতে চাই না। আমরা সবাই জানি ব্যাটিংটা শেষ কয়েকদিন ধরে ভালো হচ্ছে না। কয়েকটি সিরিজে আমরা ওরকম ভালো করিনি। কিন্তু প্রস্তুতির কথা বললে, এবার আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। আমরা যারা সুযোগ পেয়েছি, চেষ্টা করেছি ভালোভাবে প্রস্তুত হতে। প্রতিটি খেলোয়াড় বিশ্বাস করে, বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিট, আমরা ভালো করবো। পাশাপাশি একটা টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য বোলিংটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় দল হিসেবে আমাদের ভালো সুযোগ আছে এবার।’
এদিকে প্রথম টেস্টের আগে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ জানিয়েছেন গুনগত ক্রিকেট খেলতে চান, ‘দল হিসেবে আমাদের টার্গেট হচ্ছে সেরা ক্রিকেট খেলা এবং ম্যাচের ২০ উইকেট নিশ্চিত করা। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ রেখে আমাদের ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো জিততে হবে। এই ম্যাচে শাহীন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ আলী মুগ্ধ করার মতো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। ভালো ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আমাদের দল ও সমর্থকরা ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবে।’
রাওয়ালপিন্ডিতে পেসারেদের আধিপত্য সব সময়ই। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের স্কোয়াডে বিশেষজ্ঞ কোনও স্পিনারকে রাখা হয়নি। প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত পাকিস্তানের একাদশে রয়েছেন চারজন পেসার- শাহীন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, খুররাম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আলী। স্পিনার ছাড়া পেসারদের নিয়ে দল সাজানোর ব্যাখ্যায় অধিনায়ক বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে যখনই আমরা রাওয়ালপিন্ডিতে খেলি, কন্ডিশন তখন পেসার ও ব্যাটারদের সহায়তা করেছে। স্পিন বোলিং অত বড় হুমকি হিসেবে কাজ করেনি। তাই নতুন কিছু করার চেয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলি, সেটাই করতে চাই আমরা।’
এদিকে বাংলাদেশের স্কোয়াডে পেসার হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও সৈয়দ খালেদ। তাসকিন প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন না সেটা আগেই জানা গিয়েছে। এর বাইরে স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞরা আছেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত দলের ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং ইউনিট নিয়ে আশাবাদী, যার মধ্যে পেস ও স্পিন উভয় বিকল্পই রয়েছে, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের খুব ভালো পেস বোলিং ইউনিট ছিল। আমাদের তিন-চারজন কোয়ালিটি স্পিনারও আছে, তাই সব দিক কভার করেছি। কাল যখন আমরা মাঠে নামবো, তখন উইকেট মূল্যায়ন করে দল চূড়ান্ত করবো। তবে আপনি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, সিমাররা এখানে কিছুটা সুবিধা পায়। আমাদের বোলাররা এই পরিস্থিতিতে ভালো পারফর্ম করার জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছে।’