বাংলাদেশের সামনে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি

প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও থাকছে বৃষ্টির চোখ রাঙানি। তার পরেও তো প্রথম টেস্টে সেই চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। এবার সফরকারীদের সামনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি। রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়।

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ৩২টি অ্যাওয়ে সিরিজের মধ্যে মাত্র দুটি জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে ছিল ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আর ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়। ড্র হয়েছে ৩টি। আর হেরেছে ২৭টিতে।  

পরিসংখ্যানের হিসেবে অ্যাওয়ে টেস্ট ম্যাচ জয়ও বাংলাদেশের জন্য দুর্লভ। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের আগে সেই সংখ্যাটা ছিল ৬। সেই জায়গায় সিরিজের প্রথম টেস্ট জয়টা ছিল তাদের ইতিহাসে সেরা। দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে তাই পরিবর্তন আসতে পারে। শোনা যাচ্ছে, ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ এখন ফিট। নাহিদ রানার জায়াগায় ফিরলেও ফিরতে পারেন তিনি। তবে প্রথম টেস্টের সাফল্য বিবেচনায় সেটার সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে এই টেস্ট যে সহজ হবে না, সেটা নিয়ে শিষ্যদের আগেই সতর্ক করে রেখেছেন বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘ওরা খুবই শক্তিশালী। আশা করবো ভালো লড়াই হয়তো হবে। তবে প্রথম ম্যাচের চেয়ে আমরাও ভিন্ন কোনও দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করবো না। একই মানসিকতায় মাঠে নামবো।’ 

বৃষ্টির কারণে শেষ ম্যাচের আগ দিয়ে অনুশীলন বাদ হয়েছে দুই দলেরই। বাগড়া দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রথম দিনেও। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ সদস্যের দল ঘোষণার আগে পাকিস্তানকে দোটানায় থাকতে হয়েছে। এই টেস্টে পাকিস্তান চাপে থাকবে বেশি। সমতা ফেরাতে তাদের জয় ছাড়া বিকল্প নেই। বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু ড্র। কিন্তু সর্বশেষ সিরিজের ফল বিবেচনায় নিলে স্বাগতিকরা মোটেও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ হয়েছে।

এবার তো পেসার শাহীন আফ্রিদিকে ছাড়াই শেষ টেস্ট খেলতে হচ্ছে। প্রথম টেস্টের একাদশ নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের ডাক পড়েছে। লাল বলে পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ জেসন গিলেস্পি তাই ম্যাচের আগে বলেছেন, সমতা ফেরানোটা তাদের জন্য আসলেই চ্যালেঞ্জিং, ‘আমরা এখন সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবো। ইতিবাচকতাই মূল মন্ত্র থাকবে। ব্যাটারদের ক্ষেত্রে বিষয়টা হবে প্রচুর সিঙ্গেলের ওপর জোর দেওয়া। আর বোলারদের জন্য ব্যাপারটা হবে নিমর্মতার সঙ্গে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানো।’