পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিন নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। তার ১৩৮ রানের অনবদ্য এক ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ দল এখন চালকের আসনে। অথচ দিনের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন লিটন।
দুর্দান্ত এই ইনিংস ও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে মিরাজের অবদান বেশি বলে মনে করেন লিটন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো আশাই করিনি (সকালের সেশনের) পানি পানের বিরতির আগে আমাকে নামতে হবে। আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। মিরাজের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিলো ওরা (পাকিস্তান) তো মোমেন্টাম পেয়ে গেছে। আমরা ক্রিজে কিছু সময় কাটাই, দেখি কী হয়! তবে, পাকিস্তানি বোলারদের মিরাজ কয়েকটি বাউন্ডারি মারে। তার সেসব চার বেশ দ্রুত এসেছিল। তখনই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।’
টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ১৪১ রান লিটনের সেরা। তুলনা করতে গিয়ে লিটন বলেছেন, ‘সত্যি বলতে তেমন কিছু না। আমি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৪১ রান করেছিলাম, ওই একই পরিস্থিতি। এটাকেও ভালো ইনিংস বলছি। আমিও ভাগ্যবান এমন একটা সুযোগ এসেছে। আমি খুশি।'
আবরার আহমেদকে দারুণ এক শটে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে সীমানাছাড়া করে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন লিটন। শুধু তাই নয়, প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিনি একটা রেকর্ডও গড়েছেন। ৫০ এর কম দলীয় স্কোর থাকা অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নেমে এই নিয়ে তিনি ৩টি সেঞ্চুরি করলেন। এর আগে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ রানে ৪ উইকেট পতনের পর লিটন খেলেছিলেন ১১৪ রানের ইনিংস। আর তার আগের সবশেষ সেঞ্চুরির ম্যাচেও বাংলাদেশ ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল। আবারও দলের সঙ্কট মোচনকারী হিসেবে নিজেকে চেনালেন এই ব্যাটার।
নিজের ইনিংস নিয়ে লিটন বলেছেন, 'আমি কখনোই অনেক দূরের চিন্তা ভাবনা করিনি। আমি যখন সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে শুরু করলাম, উনি দ্রুত আউট হয়ে গেছেন। আমি আর মিরাজ দুজনেই নতুন। একটাই আলোচনা করছিলাম, খেলাটা কতখানি লম্বা টেনে নেওয়া যায়। কারণ তারা খুব ভালো বল করছিল। নতুন বল সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আর তারা একটা মোমেন্টামে ছিল। আমাদের মধ্যে আলোচনা এটাই হচ্ছিলো, কীভাবে আমরা মোমেন্টাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।'
বাংলাদেশের এই প্রতিরোধে লিটন যদি হোন হিরো, তবে মেহেদী হাসান মিরাজ হচ্ছেন সাইড হিরো। মিরাজকেও কৃতিত্ব দিলেন লিটন, ‘কৃতিত্বটা মিরাজকে দিতে হবে। আমি তো হাতে বল লাগার কারণে শট খেলতে পারছিলাম না। মিরাজ তাদের অনেকটা ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে শট খেলে। আমার মনে হয় শুরুতে মিরাজের কয়েকটা বাউন্ডারি খেলা ছন্দ তৈরি করেছে।'