প্রথম দফার মতো দ্বিতীয়বারও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। প্রথমবার নিজেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। আর এবার তাকে চাকরিচ্যুত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ হাথুরুসিংহেকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিতে নতুন কোচ ফিল সিমন্স ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। বুধবার বিকালে বিদায়ী ও সদ্য যোগদান করা কোচদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
দুই মেয়াদে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল কোচ হাথুরুসিংহে। মাঠের বাইরের ইস্যু নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু পারফরম্যান্সে তিনি অনেক এগিয়ে। প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে তার অধীনে। বিশ্বকাপ থেকে ফিরে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে হারায় বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলেছিল সেমিফাইনাল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় মেয়াদেও সাফল্য কম নয়। তার অধীনে টেস্টে ১০ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচটিতে, একটি ড্র ও হার চারটি। ওয়ানডেতে ৩৫ ম্যাচে ১৩ জয়ের বিপরীতে পরাজয় ১৯ ম্যাচে। টি-টোয়েন্টিতে ৩২ ম্যাচে খেলে জিতেছে ১৭টিতে।
তারপর মাঠের বাইরে নানা কর্মকাণ্ডে হাথুরুসিংহেকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বেশি। ফাহিম মনে করেন, সাফল্য-ব্যর্থতা মিলেই ছিলেন তিনি। বুধবার বিকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘তার অধীনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা আমরা শুনেছি। তার এভাবে চলে যাওয়াটা একদিক দিয়ে দুঃখজনক। তার প্রতি আমার ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতিও রয়েছে। কিন্তু তার অর্জনও যেমন আছে, ব্যর্থতাও কিন্তু আছে। অনেকগুলো আইসিসি ইভেন্ট তিনি কোচ হিসেবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা যেমন আশা করেছিলাম, তেমন হয়নি। তার পারফরম্যান্স ভালো মন্দ মিলিয়েই।’
এদিকে হাথুরুসিংহের বদলে ক্যারিবিয়ান সাবেক ক্রিকেটার সিমন্সকে কোচ হিসেবে আগামী চার মাসের জন্য নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। আজ বুধবার সকালে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। ২১ অক্টোবর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিমন্সের নতুন মিশন। সাবেক এই অলরাউন্ডার কোচ হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত নাম। দুই দফায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়েই ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। এর আগে-পরে মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি, ব্যাটিং কোচ ছিলেন আফগানিস্তান দলের। এছাড়াও নানা সময়ে বিভিন্ন দলের পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবে কাজ করেছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় প্রধান কোচসহ নানা ভূমিকাতে দেখা গেছে তাকে।
নতুন এই কোচকে নিয়ে ফাহিম বলেছেন, ‘সিমন্স অনেক হাই প্রোফাইল একজন কোচ, এটা বলবো না। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে ওনার যে অভিজ্ঞতা আছে এবং জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। ফলে ছোট দলগুলোকে কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়, খুব ভালো করেই জানা থাকবে তার। আমার মনে হয়, তার এই অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে দেবে।’