যে কারণে জাতীয় দলে সহকারী কোচের দায়িত্বে সালাউদ্দিন

২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে ফিল্ডিং ও সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ১৪ বছর পর তিনি আবার জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ফিরেছেন। তবে এবার সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে। দীর্ঘদিন পর কেন এলেন জাতীয় দলে, সেটি খোলাসা করলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে সালাউদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় কোচদের অনুপ্রাণিত করতেই তিনি জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ফিরেছেন।

নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডও সহকারী কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সালাউদ্দিনকে। কিন্তু ওই সময় ‘সহকারী কোচ হওয়ার বয়স নেই’ বলে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এবার কেন মন বদলে ফেললেন, সেটা জানালেন ৫১ বছর বয়সী কোচ।

শুক্রবার বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমার এই নতুন করে আসার পেছনে একটা কারণ হচ্ছে… যেহেতু অনেক দিন ধরেই শুনছি দেশি কোচদের একটি প্ল্যাটফর্ম বিসিবি করে দেবে, সেই পথ যদি আমি করে দিতে পারি, সেটা যতদিনের জন্যই হোক… (ভেবেছি) দেশি কোচরাও হয়তো ভালো করবে। কাজেই পরের (দেশি) কোচ যারা আসবে, তাদের প্রতি বোর্ডের বিশ্বাস বাড়বে, মানুষের বিশ্বাস বাড়বে, জনগণের বিশ্বাস বাড়বে এবং সেই সঙ্গে কোচদেরও নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়বে যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা ভালো করতে পারি।’

সালাউদ্দিন আরও বলেছেন, ‘এই বিশ্বাস আনার দায়িত্বটা কারও না কারও নেওয়ার উচিত ছিল। আমি যদি কাজটা ঠিকভাবে করতে পারি, পরের কোচদের জন্য বড় একটা পথ খেলা হয়ে যাবে। আমার যে সমাজ, যে কোচ, সেই কোচদের পথ দেখানোর বড় একটা দায়িত্ব কিন্তু আমার পড়ে গেছে এবং সেটাকেই আমি একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমি যদি ভালো করতে পারি, পরের কোচদের অনেক জায়গাতেই পথ খুলে যাবে। যেটা হয়তো পরবর্তী জীবনে আমাকে অনেক তৃপ্তি দেবে।’

কোচিংয়ে ফিরে আসার পেছনে বোর্ড প্রধানের বড় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করলেন সালাউদ্দিন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আসলে কথা হচ্ছিল। আমার এই কাজটা করার পেছনে ফারুক ভাইয়ের অবদান অনেক বেশি। তিনি আমাকে অনেকবার ডেকেছেন, কথা বলেছেন, বুঝিয়েছেন কেন আমাদের স্থানীয় কোচদের দরকার বাংলাদেশ দলে। আমারও যে ইচ্ছে ছিল না, তা নয়। তবে অনেক কারণেই আসতে পারছিলাম না। আমার মনে হয়েছে, এখনই হয়তো সেরা সময়, যেটা দিয়ে বাংলাদেশকে আবারও হয়তো সেবা দিতে পারবো। দেশের যদি কিছুটা উপকারও হয়, কোচিং ক্যারিয়ারের শেষে দিকে আমার নিজেরও হয়তো তা ভালো লাগবে।’

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমদের হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পেয়েছে অনেক স্মরণীয় জয়। তবে সালাউদ্দিনের মতে, শুধু এখানেই থেমে থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট বেশি দূর এগোবে না, ‘আমরা যারা বলি সাকিব, তামিম, মুশফিকেরা একটা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে গেছে, ওটা যদি না ভাঙতে পারি, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেট এগোয়নি। (আমাদের কাজ) পরবর্তী প্রজন্ম যেন তাদের চেয়ে সেরা খেলোয়াড় হতে পারে, বড় হতে পারে, এই কাজগুলো যদি করতে পারি... আর এসব করা অসম্ভব যে তাও নয়। কারণ এখন তারা ভালো ক্রিকেট খেলে। মানসিক, শারীরিক, আর্থিক- যে দিকটার কথাই বলেন না কেন, তারা অনেক স্বাবলম্বী। আগে হয়তো ছিল না। সুযোগ-সুবিধাও এখন অনেক বেড়েছে।’

কোচিং অভিজ্ঞতায় বেশ সিদ্ধহস্ত সলাউদ্দিন। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন তিনি। এছাড়া এক বছর বিসিবি একাডেমির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। বিকেএসপিতে খণ্ডকালীন কোচ হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ২৫ বছর। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ ও বিপিএলে একজন সফল কোচ হিসেবে পরিচিত তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চারবার বিপিএল শিরোপা জিতিয়েছেন। এবার সালাউদ্দিনের ছোঁয়া জাতীয় দল বদলে যায় কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।