টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে দলটির তারুণ্য নির্ভর দলটা যে আরও অপ্রতিরোধ্য সেটার প্রমাণ মিললো দক্ষিণ আফ্রিকায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৯৭ রানের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ার একমাস তিন দিন পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা রেকর্ডবুক ওলট পালট করে ৪ ম্যাচের সিরিজ নিশ্চিত করেছে ২-১ ব্যবধানে। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের হারিয়েছে ১৩৫ রানে।
এই সিরিজ নিশ্চিত করতে গিয়ে সফরকারী দল এমন সব কীর্তি গড়েছে যা সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ভারত আগে করেনি। শেষ ম্যাচে তাদের ১ উইকেটে করা ২৮৩ রান ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস! ভারতের অবশ্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু কি তাই? আইসিসির প্রথম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে একই ইনিংসে উপহার দিয়েছে দুটি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি (সাঞ্জু সাম্যাসন ও তিলক বার্মা)। একই সিরিজে চারটি সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম দলও তারাই। বিপরীতে প্রোটিয়ারা গড়েছে লজ্জার রকের্ড। ১৪৮ রানে গুটিয়ে রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় হারটি দেখতে পেয়েছে। চলতি বছর ভারতীয় দল যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে টি-টোয়েন্টিতে কোনও রেকর্ডই এখন আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।
একবার দেখে নেওয়া যাক চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জিতে ভারত যেসব কীর্তি গড়েছে
১. ১ উইকেটে ২৮৩- জোহানেসবার্গে ভারতের এই স্কোর টি-টোয়েন্টির পঞ্চম সর্বোচ্চ। ভারতের অবশ্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত মাসে হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৯৭ রানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ পেয়েছিল তারা।
২. একই ইনিংসে জুটির জোড়া সেঞ্চুরির এটি তৃতীয় নজির। যা করেছেন সাঞ্জু স্যামসন (১০৯*) ও তিলক বার্মা (১২০*)। বুলগেরিয়ার বিপক্ষে প্রথমে এমন নজির গড়েছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের সাবাউন ডাভিজি ও ডিলান স্টেইন। তার পর চীনের বিপক্ষে এমনটা গড়েছিলেন জাপানের কেন্ডেল কুদুওয়াকি ফ্লেমিং ও লাচলান ইয়ামামোটো।
৩. আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতই একমাত্র দল যাদের তিনটি ২৫০ প্লাস স্কোর করার নজির রয়েছে। তাদের পরে রয়েছে চেকপ্রজাতন্ত্র, জাপান ও জিম্বাবুয়ে- যাদের দুটি ২৫০ প্লাস স্কোর।
৪. দ্বিতীয় উইকেটে স্যামসন ও তিলক ২১০* রানে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে এটাই ভারতের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। আগের সর্বোচ্চটি ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে রোহিত শর্মা ও রিংকু সিংয়ের ১৯০।
৫. ইনিংসে ভারতের ব্যাটাররা ছক্কা মেরেছেন ২৩টি। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। গত মাসে গাম্বিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৭টি ছক্কা মেরেছিল জিম্বাবুয়ে। গত বছর এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ২৬টি ছক্কা মেরেছিল নেপাল। গত বছর জাপানও চীনের বিপক্ষে ২৩টি ছক্কা মেরেছিল।
৬. মাঝের ওভারে (৭-১৬) গতকাল ১৫৭ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। মাঝের ওভারে এর চেয়ে বেশি রান সংগ্রহের নজিরও আছে। সেটা হচ্ছে নেপালেল। ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ১ উইকেটে ১৬৩ রান যোগ করেছে তারা।