চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণে আইসিসির জরুরি সভা?

চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণে এই সপ্তাহে জরুরি সভায় বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আইসিসি। আর সেই সভায় এজেন্ডা থাকছে একটিই! সভাটি হতে যাচ্ছে ২৬ নভেম্বর। এমন তথ্য জানিয়েছে ক্রিকইনফো। 

জরুরি ওই সভাতেই সিদ্ধান্ত হবে টুর্নামেন্টটির জন্য আবারও হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করা হবে কিনা। সেক্ষেত্রে ম্যাচগুলো পাকিস্তান ও বিদেশি ভেন্যুতে ভাগ করে আয়োজিত হবে। বিদেশি সেই ভেন্যুর নাম পরে চূড়ান্ত করা হবে। 

অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে সভার কথা জানা গেলেও আইসিসির এক মুখপাত্র বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছু এখনও নিশ্চিত হয়নি। এটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি কয়টি বোর্ডকে সভার ব্যাপারে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) এই ব্যাপারে কোনও তথ্য পায়নি। 

আইসিসির বোর্ডে সাধারণত ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধি থাকে। সহযোগী দেশ থেকে থাকে তিনজন। তাছাড়া একজন স্বাধীন পরিচালক, আইসিসি চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অংশ নিয়ে থাকেন।

এমন কিছু হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এরই মধ্যে আইসিসিকে জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তান সফরের অনুমোদন দেয়নি ভারত সরকার। অথচ তিন বছর আগেই টুর্নামেন্টটি আয়োজনের স্বত্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে। তার পর থেকে দেশটি লাহোর, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্যে ছিল অবিচল! 

কিন্তু বর্তমান অনিশ্চয়তায় টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচি আইসিসি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি।  অতি সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে- এই ব্যাপারে তিনি ইতিবাচক। নাকভি আবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। বলেছেন প্রয়োজনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনা করে সমস্যা দূর করতে রাজি তিনি।  

এখানে উল্লেখ্য, টানা দ্বিতীয় বছর পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট আয়োজনে হাইব্রিড মডেলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপটির আয়োজকও ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারত সেই দেশে সফর করতে রাজি না হওয়ায় এই মডেলে টুর্নামেন্ট পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কায় আয়োজনে বাধ্য হয় তারা। অথচ একই বছর পাকিস্তান ঠিকই ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিতে সেখানে সফর করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দৃষ্টিহীনদের নিয়ে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করেছে। এই টুর্নামেন্টের বেলাতেও দেশটির সরকার পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেয়নি।