ইমনের সেঞ্চুরির পর রানার বোলিংয়ে লড়াইয়ে ফিরলো খুলনা

জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের স্পিনার নাঈম হাসানের বোলিংয়ে ২০৪ রানে অলআউট হয়েছে খুলনা বিভাগ। ব্যাকফুটে থাকা দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন খুলনার পেনার মেহেদী হাসান রানা। তার দারুণ বোলিংয়ে চট্টগ্রাম ২২০ রানে অলআউট হয়েছে। ১৬ রানের পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা এক উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৫৬ রান।

প্রথম ইনিংসে খুলনাকে ২০৪ রানে থামিয়েছে চট্টগ্রাম। কোনও উইকেট না হারিয়ে আগের দিন ৩১ রান করা চট্টগ্রাম ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে আরও ৩০ রান যোগ করতে পারে। দলীয় ৬১ রানে আগের দিন ১১ রান করা সাদিকুর আজ আউট হন আরও ১৬ রান করে (২৭)। এরপর নিয়মিত উইকেট হারালেও চট্টগ্রামের ত্রাতা হয়ে উঠেন পারভেজ হোসেন ইমন। আগের দিন ২০ রান করা এই ব্যাটার আজকে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ১৩৯ বলে ১৯ চার ও ১ ছক্কায় ইমন খেলেন ১০৭ রানের ইনিংস। এর বাইরে ইরফান শুক্কুরের ৪০ রানের ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম ২২০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।  

চট্টগ্রামকে অল্প রানে বেঁধে ফেলতে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান রানা। তিনি ৮৫ রানে নেন ৫টি উইকেট। মাসুম খান টুটুল নেন চারটি উইকেট। 

১৬ রান পিছিয়ে থেকে খুলনা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে। রবিবার শেষ সেশনের শেষ ঘণ্টা ব্যাটিং করে ১৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে খুলনার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৬ রানের। দিনশেষে ৪০ রানে এগিয়ে আছে তারা। এনামুল হক বিজয় ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন।  

এর আগে শনিবার সিলেট একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে খুলনা। চট্টগ্রামের বোলারদের বিপক্ষে একাই লড়াই করেছেন অমিত মজুমদার। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রানের ইনিংস। খুলনার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন নাঈম। এই স্পিনার ৪৮ রানে নেন ৫টি উইকেট। এছাড়া আশরাফুল হাসান নেন তিনটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত খুলনা ২০৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে।

এদিকে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বরিশাল ৩০৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। সর্বোচ্চ ৭৮ রান আসে আব্দুল মজিদের ব্যাট থেকে। এছাড়া সোহাগ গাজীর ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রানের ইনিংস।

সিলেটের বোলারদের মধ্যে রেজাউর রহমান রাজা সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। অনেকদিন পর খেলতে নামা এবাদত হোসেন নেন দুটি উইকেট।

বরিশালের দেওয়া ৩০৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিক সিলেট ৬ উইকেটে ২১৭ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে। ৮৭ রান পিছিয়ে থেকে সোমবার তৃতীয় দিন শুরু করবে তারা। সিলেটের ব্যাটারদের মধ্যে সবাই ভালো শুরু পেলেও ইনিংসটাকে বড় করতে পারেনি। অমিত হাসান সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। মুবিন আহমেদ ও নামুস হোসেন প্রত্যেকেই ৫৩ রানের ইনিংসে খেলেছেন।