গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সহজ সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ থেকে ছিটকে গিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ১১৬ তাড়া করতে নেমে ১০৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সেই কিংসটাউনের আক্ষেপ এবার ঘুচানোর সুযোগ। আনোর্স ভেলেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। প্রথমটি শুরু হচ্ছে সোমবার ভোর ছয়টায়। টি স্পোর্টসের পর্দায় ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে।
গত জুনে সেন্ট ভিনসেন্টেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচ জিতলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে হার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় নাজমুল হোসেন শান্তদের। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই সেন্ট ভিনসেন্টেই বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে। পুরানো দুঃখ যখন সঙ্গী, তখন নতুন করে সেন্ট কিটসে ওয়ানডেতে ধবলধোলাই হওয়ার তাজা ক্ষত ক্রিকেটারদের হৃদয়ে। এমন অবস্থা সঙ্গী করেই সোমবার ভোরে মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। নিয়মিত অধিনায়ক শান্তর অবর্তমানে কুড়ি ওভারের নেতৃত্ব পেয়েছেন লিটন। কিন্তু এই অধিনায়কের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুবই নাজুক। নিজের সর্বশেষ সাত ওয়ানডে ইনিংসের একটিতেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। এই অবস্থায় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে কতখানি পারবেন, সেটিই দেখার!
সমুদ্রের পাড়ঘেঁষা স্টেডিয়াম আর্নোস ভেলে গ্রাউন্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রানাডাইন্সের রাজধানী কিংসটাউনে অবস্থিত অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা মাঠটি। এর উইকেট ও কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চিন্তার হতে পারে। এমনিতেই এই মাঠে খুব বেশি খেলা হয়নি। ২০১৩ সালে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি পড়ে আর্নোস ভেলেতে। এরপর গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ভেন্যুতে পাঁচটি ম্যাচ হয়। যার তিনটিই খেলেছে বাংলাদেশ। নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পেলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটি জিততে পারলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু ১১৬ রানের লক্ষ্যটা নির্ধারিত ওভারে ছুঁতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ঐতিহ্যগতভাবেই কিংসটাউনের উইকেটে কিছুটা ধীরগতির হয়ে থাকে।
এমন উইকেটে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হতে পারে বাংলাদেশ দলকে। অধিনায়ক লিটন স্পষ্ট করে না বললেও তেমন কিছুর ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন, ‘সাধারণত টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো আমাদের জন্য কঠিনই হয়। যেহেতু এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হোম গ্রাউন্ডে খেলা, আমাদের জন্য একটু কঠিনই হবে। আমরা চেষ্টা করবো এখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায়, ভালো একটা সিরিজ উপহার দেওয়া যায়।’
নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কুড়ি ওভারের ক্রিকেট কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে অধিনায়ক নিজে যখন ফর্মহীন, তখন দলে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়াটা অমূলক নয়। কিছুটা স্পিন বান্ধব উইকেটে ব্যাটারদের পাশাপাশি স্পিনারদের দায়িত্বটা বেশিই থাকবে। রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ কিংবা শেখ মেহেদী হাসান- যারাই সুযোগ পাবেন, তাদের সেরাটা দিতে হবে।
ব্যাটিংয়ে ভরসা করা যেতে পারে সৌম্য সরকারের ওপর। গ্লোবাল সুপার লিগে দারুণ ব্যাটিং করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। ওয়ানডে সিরিজে দল হারলেও তার ব্যাটে ছিল রান। গত শুক্রবার সেন্ট ভিনসেন্টে পৌঁছেই ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। দলের প্রস্তুতি শেষে সৌম্য বলেন, ‘ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবো আমরা। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে ফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি আছে বাংলাদেশ ক্যাম্পে। শুক্রবার যা একটু অনুশীলন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। শনিবার বৃষ্টির কারণে মাঠে উপস্থিত থাকলেও একটি বলও অনুশীলন করতে পারেনি লিটনের দল। তবে অধিনায়ক অনুশীলনের কোনও ঘাটতি দেখেন না বলেই জানালেন। এখন দেখার অপেক্ষা কিংসটাউনে আক্ষেপ ঘোচাতে পারবে কিনা বাংলাদেশ।
সেন্ট ভিনসেন্টবাসী অবশ্য বাংলাদেশকে প্রাণভরে শুভ কামনা জানাচ্ছেন। কিংসটাউনে অবস্থিত আর্নোস ভেলে গ্রাউন্ডের আশপাশে থাকা স্থানীয়দের মুখে মুখে কেবল একটাই কথা ‘গুড লাক বাংলাদেশ’। বাংলাদেশে যেটি মাইক্রোবাস, সেটি সেন্ট ভিনসেন্টে বাস। এই বাসে চড়েই গন্তব্যে যেতে হয় সেন্ট ভিনসেন্টবাসীদের। কেউ কেউ নিজস্ব গাড়িও ব্যবহার করেন।
স্টেডিয়ামের সামনেই টিকিটের বুথ। সন্ধ্যার পর কেউ কেউ টিকিট কিনতে এসে বুথ বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়েছেন! বোঝাই যাচ্ছে সেন্ট ভিনসেন্টের ছুটির দিনে সোমবার গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়াবে। তার আগে মাঠের বাইরে দর্শকদের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলো, সেটি ধরে রাখতে মাঠে সেরাটা দিতে হবে লিটনদের।