শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রানের। ক্রিজে ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। ৩৩ বলে ৬০ রান করে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটি প্রায় ছিনিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা ছিলেন তিনি। তবে শেষ ওভারে হাসান মাহমুদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের শিকার হতে হয় তাকে। আরও দুই বল খেলে ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে সাজঘরে ফিরেছেন। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ফিরতেই ম্যাচটি বাংলাদেশের হাতের মুঠোই চলে আসে। পঞ্চম বলে আলজারি জোসেফকে ফিরিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে যায় বাংলাদেশ। শেষ ওভারে হাসান এমন কিছু করবেন সেই বিশ্বাস ছিল ম্যাচসেরা শেখ মেহেদী হাসানের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমকে মেহেদী বলেছেন, ‘হাসান আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছে। আয়ারল্যান্ড সিরিজে ডেথ ওভারে হাসান একটি ম্যাচ জিতিয়েছে। ওই ম্যাচের কথা আমার মনে পড়ছিল। আমার অনুভূতি হচ্ছিল হাসান হয়তো পারবে। হাসানের বিশ্বাস ছিল কিনা জানি না, আমার নিজের ভেতর সেই বিশ্বাসটা ছিল যে হাসান হয়তো ম্যাচটা শেষ করবে। আলহামদুলিল্লাহ শেষ ওভারে হাসান অসাধারণ বল করেছে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের মাঝপথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশ দল ফের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। শেষ দুই ওভারে দলের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে এমন প্রশ্নে মেহেদী বললেন, ‘আমরা কী আরামে জিতেছি? সবকিছু কষ্ট করেই হয়েছে। সবাই জেতার জন্য অনেক ক্ষুধার্ত ছিল। প্রত্যেকটা প্লেয়ারই জেতার জন্য মুখিয়ে ছিল। এ কারণেই সফল হতে পেরেছি।’
ওয়ানডে ক্রিকেটে সুযোগ পান না মেহেদী। টি-টোয়েন্টিতে মাঝে মধ্যে সুযোগ হয়। কিন্তু যখনই সুযোগ পান, খেলেন ম্যাচ জয়ী ক্রিকেট। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় লাইনআপ গুড়িয়ে দেওয়ার আগে ব্যাট হাতে খেলেছেন ২৪ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তারপরও অনিয়মিত সুযোগের কোন আক্ষেপ নেই মেহেদীর, ‘আক্ষেপ বলতে, আপনি যদি দেখেন আমি কিন্তু টি-টোয়েন্টিতেও সেটেল না। নিয়মিত টি-টোয়েন্টি দলে খেলি না। সিচুয়েশন অনুযায়ী বা টিম কম্বিনেশন অনুযায়ী খেলতে হয়। আমার ক্ষেত্রে আসলে ধৈর্যই ধরতে হবে। দেখা যাক সামনে কী হয়। ধৈর্য ছাড়া তো উপায় নেই।’
ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রিয় ক্রিকেটার মেহেদী। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে নিয়মিত বিপিএল খেলেছেন। এমনকি প্রিমিয়ার লিগের গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে মেহেদীর। সালাউদ্দিন কোচ হিসেবে থাকায় নির্ভার কিনা এমন প্রশ্নে শেখ মেহেদী বলেছেন, ‘আপনি যদি দেখেন আমি যখন ঘরোয়াতে বা টপ লেভেলে খেলা শুরু করেছি তখন কিন্তু উনার সঙ্গেই শুরু করেছি। আসলে উনি আমাকে জানে, খুব ভালোভাবেই জানে। উনি মাঠে থাকলে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পাই। যদি কোনো ভুল করি উনি তাৎক্ষণিক সেটা ধরতে পারে। বার্তাটাও দিয়ে দেয়। এরকম একজন লোক কাছে থাকলে নিজেই খুব বুস্ট আপ হই।’