বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মানেই যেন সার্কাস। এগারোতম আসর চলছে। কিন্তু প্রতি আসরেই কোনও না কোনও ইস্যুতে বিপিএল হয়ে ওঠে প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিসিবিতে এসেছিল রদবদল। বোর্ড সভাপতি হিসেবে সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, বিপিএলের নানা অসঙ্গতি দূর করবেন। কিন্তু তা হয়েছে কি! উল্টো গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। বোর্ডও সেসব জানে না! এসব কিছু ভালো লাগেনি সাবেক পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনের। রবিবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশ কোথায় হলো?’
সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ক্রিকেটারদের একটি চুক্তি হয়। যেটা সরবরাহ করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টুর্নামেন্টের অর্ধেক গড়ালেও সেই চুক্তিপত্র হাতে পাননি ক্রিকেটাররা! গত পরশু চট্টগ্রামে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না তিনি! এর বাইরে আরও একটি ইস্যু আছে। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়া বিসিবিকে আর কেউই ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়নি। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক সুজন বিস্মিত হয়েছেন।
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে ঢাকা ক্যাপিটাল কোচ বলেছেন, ‘আমার হাতে যদি ৫-৭ কোটি টাকা না থাকে, ধরে নিলাম বাকিটা স্পন্সর থেকে আসবে; একটা টিম করতে অন্তত ৮ কোটি টাকা লাগে। আমার কাছে ৮ কোটি টাকা না থাকলে আমি বিপিএলের টিম কিনবো কেন? আমি তো মানুষের আশায় কিনিনি যে, মানুষ আমাকে স্পন্সর দেবে। আপনি তো স্পন্সর পেতেও পারেন, না-ও পেতে পারেন। আর এখন মার্কেটে আপনি কত টাকার স্পন্সর পাবেন? তাহলে কারণটা কী বিপিএল টিম কেনার? আপনার যখন টাকা নেই, আপনি কেন আসছেন?’
ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যুতে বিসিবির সমালোচনা করতেও ছাড়েননি তিনি, ‘আমরা জানতাম বিপিএলে ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়, সেই ব্যাংক গ্যারান্টি কোথায়? বিসিবিকে তো ব্যাংক গ্যারান্টি দিচ্ছে না। তাহলে বিসিবির ভূমিকাটা কী? বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভূমিকা তো এসবে হওয়া উচিত। ব্যাংক গ্যারান্টি না দিলে আমি দল দিব কেন? আমাকে কেন বিপিএল করতে হলো? কেন? আমরা নতুন বোর্ড আসছি, আমাদের করতেই হবে… তো নতুন বাংলাদেশ কোথায় হলো? এটা তো আরও পুরানো বাংলাদেশ হয়ে গেলো! আমরা সবাই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু এটা তো আরও বেশি পুরানো হয়ে গেলো।’