যাচাই-বাছাই ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনেই বিপিএলের এমন দুর্দশা!

বিপিএলে পারিশ্রমিক-বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফিক্সিং বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম শোনা যাচ্ছে নানা মাধ্যমে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে হঠাৎ বিসিবিতে এসেছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। সেখানে দুর্বার রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি ও চিটাগং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির নানা অনিয়ম নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তার পর গণমাধ্যমে কথা বলতে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সেখানেই তারা জানিয়েছেন, যথেষ্ট যাচাই বাছাই ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনেই বিপিএলের এমন দুর্দশা!

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিরেল সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় যথেষ্ট ভালো ভাবে বিচার বিবেচনা করিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। যতটুকু দরকার ছিল, এই বিষয়গুলো যাছাই বাছাই না করে বোধহয় আমরা তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই কারণেই এই সমস্যার মধ্যে পড়েছি।’

পারিশ্রমিক না দেওয়ায় এবার সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছে দুর্বার রাজশাহী। সমস্যার সমাধানে তাদের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ, ‘রাজশাহীর মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা বলেছি। তিনি সময়মতো দিতে না পারলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যে নষ্ট হয়েছে, আমরা এটাতে এত শ্রম দিলাম, এখানে কারণ সত্যানুসন্ধান কমিটি খুঁজে বের করবে।’ 

আসিফ মাহমুদ কথা বলেছেন চিটাগং কিংসের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গেও। টুর্নামেন্টে পারভেজ ইমনের পারিশ্রমিক নিয়ে তার মন্তব্যের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। আসিফ বলেছেন, ‘এটা খুবই হতাশার, তাকে সতর্ক করেছি। খেলোয়াড়কে এটা বলার অধিকার তার নেই। তিনি তো খেলোয়াড়কে চুক্তির মাধ্যমে নিয়েছেন। বিসিবিকে বলছি এই ব্যাপারে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।’ 

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, ‘রাজশাহী যা করেছে একটা টুর্নামেন্ট শেষ করে দিতে তারাই যথেষ্ট। তবে আজ থেকে পাঁচ মাস আগে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তখন আমাদের জানানোর দরকার ছিল বিপিএল হবে কি হবে না। ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে, স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে এখান থেকে বের হয়ে আসবো, আগামী বিপিএলে দেখবেন।’ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যে ঠিকঠাক যাচাইবাছাই করা হয়নি সেই দায়ও স্বীকার করে নেন তিনি।

ফারুক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন বিপিএল আয়োজনের কথা জানিয়েছেন, ‘অনেক ইতিবাচক দিক বলতে হবে। আমরা দেখেছি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে কাদের সঙ্গে। (আরব আমিরাতের) আইএল টি­-টোয়েন্টির সঙ্গে সূচি সাংঘর্ষিক না করলে অনেক ভালো হবে। বিপিএল আয়োজনে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়ার চিন্তা আমাদের। বের করেছি কী করতে হবে। ৫ দলের হলেও আমাদের কাউকে খুঁজতে হবে না। উইন্ডো বের করেছি। প্রথম, দ্বিতীয় বছরে হবে না। তৃতীয় বছরেই দেখবেন লাভের মুখ দেখবে। আমাদের সময় দিতে হবে। বুঝতে হবে এবার আয়োজনে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল। ৯০ শতাংশ টিকিট (১০ কোটি টাকার) বিক্রি হয়েছে। মাঠে রান হচ্ছে। ভালো খেলা হচ্ছে। এই ইতিবাচকগুলো আপনারা লিখুন।’