টেম্বা বাভুমা, ম্যাথু ব্রিটজকে ও আইনরিখ ক্লাসেনের আশি ছাড়ানো তিন ইনিংসের পর কাইল ভেরেইনার ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৩৫২ রান সংগ্রহ করে হয়তো স্বস্তিতেই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ পাকিস্তান যে এত বড় রান তাড়া করে কোনোদিন জিততে পারেনি! একশ না ছুঁতেই পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনের টপ অর্ডার গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার রেকর্ড গড়া জুটিতে পাত্তাই পেলো না তারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করলো পাকিস্তান।
এর আগে সর্বোচ্চ ৩৪৯ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তান সফল হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ২০২২ সালের মা্র্চে লাহোরে গড়া সেই রেকর্ড ভেঙে দিলো তারা করাচিতে, ৬ উইকেটে জিতে। মোহাম্মদ ইউসুফ ও শোয়েব মালিকের ২০৬ রানকে পেছনে ফেলে পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সালমান। পাকিস্তানের হয়ে প্রথমবার তিন ও চারে নামা ব্যাটারই করলেন সেঞ্চুরি।
৯১ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর জুটি বাঁধেন রিজওয়ান ও সালমান। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে মুল্ডারকে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ছোঁন রিজওয়ান। তিন বল পর সালমান হাঁকান অভিষেক সেঞ্চুরি। তাদের দাপট দেখানো জুটিতে জয় উঁকি দিতে থাকে।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন কমে দাঁড়ায় ১০ রানের। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মেরে দলকে জয়ের আরও কাছে নেন সালমান। জয় থেকে দুই রান দূরে থাকতে তিনি আউট হন। ১০৩ বলে ১৬ চার ও ২ ছয়ে ১৩৪ রান করে লুঙ্গি এনগিডির শিকার হন সালমান। পাকিস্তানের যে কোনও উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬০ রানের জুটি ভেঙে যায়। তৈয়ব তাহির নেমেই প্রথম বলে চার মারেন। ছয় বল হাতে রেখে জয় পায় পাকিস্তান। ১২৮ বলে ৯ চার ও ৩ ছয়ে ১২২ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান। ৪ উইকেটে ৩৫৫ রান করে পাকিস্তান।
অথচ দক্ষিণ আফ্রিকা ডেথ ওভারে পাকিস্তানের নির্বিষ বোলিংয়ে ১১০ রান তুলে নেয়। শুরুটাই বেশ ভালো হয়েছিল তাদের। টনি ডি জর্জির সঙ্গে বাভুমা ৫১ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। তারপর ব্রিটজকের সঙ্গে তার ১১৯ রানের জুটি শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
এই জুটি ভাঙার পর ক্লাসেনের দারুণ ব্যাটিং। ব্রিটজকেকে নিয়ে তিনি ৬৮ ও ভেরেইনার সঙ্গে ৪৮ বলে ৭৮ রান তোলেন। শেষদিকে করবিন বশ ও ভেরেইনার ১৬ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও জুটিতে সাড়ে তিনশ পার করে প্রোটিয়ারা। সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন ক্লাসেন। বাভুমা ও ব্রিটজকে যথাক্রমে ৮২ ও ৮৩ রান করেন। তাদের দারুণ প্রচেষ্টা বিফলে গেলো রিজওয়ান ও সালমানের অনবদ্য জুটিতে।
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় করাচিতেই হবে ফাইনাল। একই মাঠে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুই দলের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির।