আইসিসি ইভেন্টে আরেকটি হতাশার গল্প লিখেছে বাংলাদেশ দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টানা দুই ম্যাচে এমন আত্মসমর্পণে ব্যাটিং ইউনিটকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটাররা আহামরি সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেননি। প্রথমটিতে ২২৮ রানে অলআউট, পরে ৯ উইকেটে ২৩৬! যার কারণ হিসেবে ভারতের সাবেক ব্যাটার ওয়াসিম জাফর বলেছেন, সিনিয়র খেলোয়াড়দের আইসিসি ইভেন্টে ব্যর্থতা!
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ম্যাচ ডে প্রোগ্রামে জাফর বিশেষ করে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে পরাজয়ের দিন দু’জনেই আউট হয়েছেন বেপরোয়া শট খেলে। তাদের অপরিপক্ক ক্রিকেটে টাইগাররা ২৭ ওভারে হারিয়ে বসে ৫ উইকেট! সাধারণ সেই লক্ষ্য তাড়া করতে কিউইদের তার পর কোনও ঘাম ঝড়াতে হয়নি। জাফর বলেছেন, ‘আমরা ২০১৯ বিশ্বকাপে দেখেছি সাকিবকে এককভাবে পারফর্ম করতে। কিন্তু আইসিসি ইভেন্ট এলে সেটা কি তাদের জন্য চাপ হয়ে যায় নাকি তারা নিজেরা চাপ নিয়ে ফেলে, এটা আসলে জানি না।’
অবশ্য মাহমুদউল্লাহর আইসিসি ইভেন্টে ভালো পারফর্ম করার ইতিহাস আছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিলেন। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দিনও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু চলতি আসরে প্রথম ম্যাচ ইনজুরিতে মিস করলেও দ্বিতীয়টিতে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনেন। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর শট সিলেকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাফর বলেছেন, ‘শট সিলেকশনও ছিল হতাশাজনক। মুশফিক যে শটে আউট হলো, মাহমুদউল্লাহ যেভাবে পাগলাটে শট খেললো... এটা জিততেই হবে এমন ম্যাচ ছিল। আর এসব ম্যাচে সবাই চাইবে তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিক, তাদের ওপর নির্ভর করুক। দুর্ভাগ্যবশত আইসিসি ইভেন্টগুলোতে এটাই বাংলাদেশের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জাফরের মনে হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডি পিচে বাংলাদেশ ৫০-৬০ রান কম করেছে। যে পিচে বোলারদের জন্য কোনও সুবিধাই নেই, ‘এই পিচে চাইলে তারা সহজেই ৩০০ প্লাস রান করতে পারতো। সেজন্য নিজেদেরই দায়টা নিতে হবে। আর নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে ২৪০ রানের নিচে অলআউট করার জন্য বোলিং ইউনিটের কাছে এতটা আশা করা বেশি হয়ে যায়।’