আফগানিস্তানের কাছে ম্যাক্সওয়েলের সেই ‘বিশ্বকাপ ডাবল’ এখন অতীত

শেষবার যখন ওয়ানডেতে আফগানিস্তান অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল খেলেছিলেন এই ফরম্যাটের অবিস্মরণীয় ডাবল সেঞ্চুরি। মুম্বাইয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে অজিদের তুলে নিয়ে রান তাড়া করে জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

২৯২ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৯১ রানে হারায় ৭ উইকেট। আফগানিস্তানের জয় সুনিশ্চিত। কিন্তু দানবীয় ব্যাটিংয়ে ম্যাক্সওয়েল ম্যাচ বের করে নেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে চোখ রেখে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই ম্যাচের স্মৃতি আসছে ঘুরেফিরে। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে বাড়তি চাপ নিচ্ছে না আফগানরা।

কারণ আফগানিস্তান জানে, কীভাবে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হয়। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২১ রানে জিতেছিল তারা। ম্যাক্সওয়েল ওই ম্যাচে ৪১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন। গুলবাদিন নাইবের কাছে তার উইকেট পড়ার মুহূর্তটি ম্যাচ পাল্টে দেয়। 

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মনে করিয়ে দিতে আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদী বললেন, ‘আপনাদের কি মনে হয় আমরা শুধু ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি? পুরো অস্ট্রেলিয়ান দলকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। জানি সে ওইবার সত্যিই খুব ভালো খেলেছিল। কিন্তু সেটা এখন অতীত। তারপর তো আমরা তাদেরকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারালাম। আমরা সব প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবি। শুধু একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে পরিকল্পনা নেই। আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা সেরাটা চেষ্টা করবো। আমরা শুধু ম্যাক্সওয়েলকে খেলছি না, অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে খেলছি।’

আজ শুক্রবার আফগানিস্তান জিতলে টানা দুটি আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলবে। কিন্তু ওতদূর এখনই ভাবছে না তারা। বরং ইতিবাচক একটা ম্যাচ খেলতে চান হাশমত।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ জয়ের ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই আফগানিস্তান মাঠে নামছে। আট রানের ওই জয়ে ১৭৭ রান করা ইব্রাহিম জাদরান বিশেষ নজরে থাকবেন। মুম্বাইয়ে সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান করেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেন্ট ভিনসেন্টে অজিবধেও ৪৮ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস ছিল তার। দারুণ ফর্মে এবারও ইব্রাহিমকে দেখা যাবে আশা করা যায়। 

লাহোরে দুটো ম্যাচেই চার ইনিংসে তিনশ পার হয়েছে। ইংল্যান্ডের ৩৫২ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে আফগানদের বিপক্ষে তিনশ পার করলেও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের দারুণ বোলিংয়ে ইংল্যান্ড রান তাড়ায় সফল হয়নি।

রানবন্যার পিচে এবারও যে দুই দল রানের তুবড়ি ছুটাবে, বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে বিজয়ের হাসি, পাবে সেমিফাইনালের টিকিট, তা জানা যাবে ম্যাচ শেষে।