বাংলাদেশের এমন দাপটের কারণ ‘স্বাধীনতা’

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতেই দেখা গেছে বাংলাদেশের আধিপত্য। বিশেষ করে দাপুটে ব্যাটিংয়ে ডাচদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছে তারা। ৯ উইকেটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জয়ের পর দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম জানিয়েছেন, এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণ। মূলত ড্রেসিংরুমে প্রতিটি ক্রিকেটারকে যার যার ভূমিকা স্বাধীনভাবে পালনের বার্তা দেওয়াতেই সেটা এভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। 

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জেতায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ তে নিশ্চিত করেছে। তাতে ২৪ বছর বয়সী তানজিদ ৪০ বলে ৫০ রানের আলো ঝলমলে ইনিংস খেলেছেন। তিনি পরিষ্কার করেন যে, দলের এই আক্রমণাত্মক মানসিকতা মোটেই কাকতালীয় নয়, ‘আমাদের পুরো দলকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, যে যার মতো খেলতে পারবে। যার যে ভূমিকা আছে, তা মাঠে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তা পরিষ্কার করে দেওয়া আছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।’

ওপেনার হিসেবে তানজিদও নিজের উন্নতি মেলে ধরেছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ফিফটি ৩টি। ব্যাটিং গড় ৩৫.৭২, স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৫। যদিও নিজেকে হার্ড হিটার মনে করেন না। তবে পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে আরও শাণিত করার চেষ্টা করছেন তিনি, ‘আমি যে ধরনের ব্যাটসম্যান, আমার জন্য হার্ড হিটিং করাটা কঠিন। চেষ্টা করছি… উডের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। এখান থেকে কীভাবে আরেকটু ভালো হিটিং করতে পারি, সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তবে তিনি খুব বেশি নড়াচড়া করছেন না আমাকে (ব্যাটিংয়ের ধরন)। শুধু এখান থেকে কীভাবে আরও ভালো ধারালো, আরও ভালো ভারসাম্য নিয়ে আমি আরও ভালো করতে পারি, এটা নিয়েই কাজ করছি তার সঙ্গে।’

এশিয়া কাপের আগে সিরিজটাকে প্রস্তুতির মঞ্চ ধরা হচ্ছিল। নিজেদের প্রস্তুতির সার্বিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে তানজিদ বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো হয়েছে। এই সিরিজ শুরুর আগে লম্বা সময় পেয়েছিলাম। এই সিরিজ শুরুর আগেও সিলেটে অনুশীলন করেছি। সিলেটের উইকেট আমরা সবাই জানি কেমন, অনেক ভালো উইকেটে অনুশীলন করতে পেরেছি। তো আমাদের পরিকল্পনা ছিল জয়ের ছন্দটা যেন ঠিক থাকে, সবাই যেন যার যার পারফরম্যান্সটা ঠিকমতো করতে পারে। উইকেট নিয়ে ভাবছি না, কারণ সেখানে (এশিয়া কাপে) যে কোনও কিছু হতে পারে। তাই মূল কথা হচ্ছে পরিস্থিতি আমরা কীভাবে সামাল দেবো, দলের সবাই এই চেষ্টাই করছে।’